নিউজ ডেস্ক।।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) কর্মচারি নিয়োগের প্রশ্নের কিছু উত্তর একজনের মোবাইলে পাওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও মাউশির পদক্ষেপে কয়েকজনকে আটক এমনকি পরীক্ষা বাতিলেও থেমে নেই আলোচনা। এরই মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনে গ্রুপিংয়ের ফলে প্রশ্নোত্তর ফাঁসের ঘটনায় একে অন্যকে জড়াতে শুরু হয়েছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমেও একে অন্যকে জড়িয়ে ইচ্ছেমতো বক্তব্য দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে মাউশি কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদারকে জড়িয়েও আসছে নানা বক্তব্য। অথচ তদন্তে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় চন্দ্র শেখরের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়া আসামী আদালতে যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সেখানেও তার (চন্দ্র শেখর হালদার) নাম বলেনি।’
ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ‘তাহলে কি প্রশ্নোত্তর ফাঁসের ঘটনা নিয়ে মাউশি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কোন পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছি শিকারে ব্যস্ত?
জানা গেছে, অধিদফতরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর ফাঁসের অভিযোগে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ৫১৩টি পদের নিয়োগে পাঁচশ পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয় এক লাখ ৮৩ হাজার জন। ঢাকার ৬১টি কেন্দ্রে এক ঘণ্টার ঐ পরীক্ষায় মোট প্রশ্ন ছিল ৭০টি (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন)। পরীক্ষার মধ্যে ইডেন কলেজ কেন্দ্র থেকে সুমন জমাদ্দারকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তার প্রবেশপত্রের উল্টোপিঠে ছোট ছোট করে ৭০টি প্রশ্নেরই উত্তর লেখা ছিল। তার ফোন পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে কেউ একজন তার ফোনে ৭০টি প্রশ্নেরই উত্তর পাঠিয়েছে। সুমনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লালবাগ থানায় মামলা করেন ইডেন কলেজের প্রধান সহকারী আব্দুল খালেক। ঐ মামলায় পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঘটনার এমন অবস্থায় পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় মাউশি। তবে এতেও থেমে নেই শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি। ভুল তথ্য প্রচারে তদন্ত কাজ ব্যাহত হয় বলেও মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা অনেকেই বলছেন, ‘এবারের বিসিএস শিক্ষা সমিতির নির্বাচনে গ্রুপিংয়ের প্রভাব পড়ছে মাউশির ঘটনায়। একপক্ষ আরেক পক্ষকে ফাঁসাতে গণমাধ্যমেও ভুল তথ্য সরবরাহ করছে। ফলে কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই যে যার মতো করে অভিযুক্তকারি হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করে দিচ্ছে। ফলে আসল ঘটনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।’
এবারের ঘটনায় চন্দ্র শেখর হালদারের কথা প্রমাণ ছাড়াই প্রচারের পেছনে আদর্শিক রাজনৈতিক বিরোধের কথাও বলছেন অনেক কর্মকর্তারা। তাই একটি পক্ষ এমন তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সমিতির একটি গ্রুপ। যদিও অন্যরা তাদের মতের সঙ্গে একমত নন।
জানা গেছে, চন্দ্র শেখর হালদার মিল্টন মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক -১)। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন।
কিন্তু এ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে আসার পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা। কিন্তু আসলেই কি তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? এমন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তারা এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। পরীক্ষার্থী সুমন জমাদ্দারের মোবাইলে উত্তর লেখা পাওয়ার সূত্র ধরে অন্যদের আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা মাউশি কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার কোন তথ্য প্রমাণ পাইনি। একজন আটকের পর উত্তর কে দিয়েছে তার উত্তরে বলেছিল, উত্তর চন্দ্র শেখর দাদা মৌখিকভাবে তাকে বলেছেন।’
অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, ‘কিন্তু তার মৌখিক কথা ছাড়া ঐ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কোন তথ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। মোবাইলে উত্তর কার কোন মোবাইল থেকে এসেছে তার আরো পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাতের লেখা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এখন পর্যন্ত চন্দ্র শেখরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন প্রমাণ পাইনি আমরা। পেলে ব্যবস্থা নেব।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যে আসামী প্রথমে মৌখিকভাবে চন্দ্র শেখরের নাম বলেছিলেন। প্রমাণ না থাকলেও তাকে বলেছিলাম আদালতের জবানবন্দিতে নামসহ সব কিছু বলতে। কিন্তু আসামী তার জবানবন্দিতেও চন্দ্র শেখরের নাম বলেননি।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
