নিউজ ডেস্ক।।‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বা প্রাঙ্গণে কোনো মেলা, সার্কাস বা বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া যাবে না’ এই মর্মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থাকলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে দেশের অনেক জেলায়। স্থানীয় প্রশাসন প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি জেনেও অজ্ঞাত কারণে অনুমোদন দিচ্ছে বাণিজ্যিক মেলার। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মাসে পাবনার পর মানিকগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেলার অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলার প্রাণকেন্দ্রে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী একটি শিল্পপণ্য মেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সম্পন্ন করা হয়েছে এই মেলার সব আয়োজন। জেলা পুলিশের নামে আয়োজিত এই মেলা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সরকারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এই মেলার আয়োজক হিসেবে জেলা পুলিশের নাম থাকলেও মূলত এর আয়োজক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট (বাংলা মুশন)। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ওয়ালিউল্লাহ মেলার আয়োজক হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশকে সামনে রেখেছেন। মেলার প্রচারপত্র হিসেবে বিতরণ করা লিফলেটের কোথাও ওয়ালিউল্লাহর প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকলেও তার প্রধান সহযোগী বাংলাদেশ বেনারসি মসলিন অ্যান্ড জামদানি সোসাইটির সভাপতি এম এ মঈন খান বাবলু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এসব তথ্য। বক্তব্য নিতে ওয়ালিউল্লাহর মোবাইল নম্বরটিও দেন তিনি। যদিও ওয়ালিউল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
আয়োজক ওয়ালিউল্লাহকে তার মোবাইল ফোনে না পাওয়ার পর তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহযোগী এম এ মঈন খান বাবলুর কাছে মেলার আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে লিফলেটে সব উল্লেখ আছে বলে জানান সাংবাদিকদের। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের আয়োজন হবে কেন, জেলা পুলিশের আয়োজন। আমরা শুধু সহযোগিতা করছি।’
‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কার্যালয় পাবনায়, মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ আপনাদের কিভাবে পেয়েছে আর আপনাদের প্রতিষ্ঠানেরই বা লাভ কী’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না আমরাও সহযোগী পার্টনার হিসেবে আছি। লাভের কিছু অংশ আমরাও পাব। তবে এ বিষয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক ওয়ালিউল্লাহ ভাইকে ফোন দেন, উনি সব ভালো বলতে পারবেন। মেলা আসলে কার নামে বরাদ্দ, তাও জানতে পারবেন।’
স্কুল মাঠে মেলার অনুমতি দেয়া নিয়ে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘করোনা পরবর্তী বর্তমান সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতে করোনায় আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রায় দু’টি বছর নষ্ট হয়েছে, বিশেষ করে মেধা অর্জন থেকে দু’টি বছর তারা পিছিয়ে পড়েছে। এরপর আবার যদি সরকারি অনুমোদনে এখানের স্কুল মাঠে দেয়া হয় মেলার আয়োজন, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আবার বাধাগ্রস্ত হবে।’ মেলা বন্ধেরও দাবি জানান অভিভাবকরা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
