নিউজ ডেস্ক।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ মোট তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদের এক বক্তব্যের পর গত রবিবার সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা করেন। হামলার প্রতিবাদ ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাবি সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়।
ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী শুরুর আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ও বিভিন্ন পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয় ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিনা উস্কানিতে তারা হকিস্টিক, রড, চাপাতি, লাঠিসোঁটাসহ দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সরাসরি নির্দেশে এ হামলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের দুই হাত ভেঙ্গে গেছে। নারী নেত্রীর ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পারে না। তারা বহিরাগত সন্ত্রাসী। ঢাবি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ছাত্রদলের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ছাত্রলীগ এই হামলা করেছে বলে জানান, ঢাবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে আসা কেন্দ্র করে পয়েন্টে পয়েন্টে ছাত্রলীগ অবস্থান নিয়েছিল। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে আমাদের মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছাতেই ছাত্রলীগের তিন শতাধিক নেতাকর্মীর একটি দল আমাদের বাধা দেয়। তারা বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা করে।
হামলার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে আবারও মিছিল শুরু করে ছাত্রদল। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের সামনে গেলে আবারও ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু হটলেও কিছুক্ষণ পর লাঠিসোঁটা নিয়ে দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যেই ইট ছোড়াছুড়ি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী ধাওয়া দিলে ছাত্রদল ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। এ দিন দুপুর পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসের প্রতি প্রবেশপথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের দুজনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাদেরকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন ছাত্রদল কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্যজন সম্ভবত সাধারণ লোক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোন পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাইনি। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার বিষয়েও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
ছাত্রদলের সঙ্গে এই সংঘর্ষকে ‘প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ’ আখ্যা দিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, রাজাকারদের তল্পিবাহক ও সন্ত্রাসের ডিস্ট্রিবিউটর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিভীষিকা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের সহিংস সন্ত্রাসবাদী কর্মকা-ের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিঘিœত করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজও ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করেছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়েছে। আর সেটা করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন।
ছাত্রদল কিলিং মিশন নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চেয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে, ছাত্রদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা এখানে এসেছে। তারা সাংগঠনিকভাবে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, লাশ ফেলার পাঁয়তারা করছে। এ সময় সাদ্দাম হোসেন ছাত্রদলকে সন্ত্রাসের ভাষা পরিত্যাগ ও রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
