এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদে পদে কোটা, যেভাবে পূরণ হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। তিন ধাপের পরীক্ষার প্রথম ধাপ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে আগাশী ২০ মে ও তৃতীয় ধাপে ৩ জুন পরীক্ষা হবে। এবার মোট ৪৫ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯-তে বলা আছে, সরাসরি নিয়োগে পদের ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পোষ্য ও ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা অনুসরণ করা হয়। এ তিন কোটায় ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে বিজ্ঞানের যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধায় নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি দিয়ে পূরণ করা হয়। ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। পদোন্নতির যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগ দিয়ে পূরণ করা হয়।

পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে প্রশিক্ষণসহ সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। আর সরাসরি নিয়োগে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। বয়সসীমা ২১-৩০ বছর। আর সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। এ জন্য দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

নারী, পোষ্য ও পুরুষ কোটা পূরণে বলবৎ অন্য কোনো বিধি, সরকারি সিদ্ধান্তে বিশেষ শ্রেণির কোটা নির্ধারিত থাকলে সে বিধান অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। পোষ্য কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা বা ছিলেন, এমন শিক্ষকের অবিবাহিত সন্তান, বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী বা তালাকপ্রাপ্ত কন্যা, যারা শিক্ষকের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল প্রার্থীরা সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া বিশেষ বিধান অনুসারে উপজেলা ও থানা কোটা মানা হয়। উপজেলা বা থানাভিত্তিক শূন্যপদ অনুযায়ী কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধায় উপজেলা বা থানার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দিয়ে পদ পূরণ করতে হবে। সরাসরি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দুই বছর শিক্ষানবিশকাল গণ্য হয়। এ সময় কর্মদক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত করতে পারবে প্রার্থীকে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, নিজ জেলা ও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য বিভাগে বদলির তেমন সুযোগ নেই। বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যত্র বদলি করার সুযোগ আছে। যেমন কোনো শিক্ষক রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার সুবিধার্থে বদলি করা হয়।

চলমান নিয়োগ পরীক্ষা শেষে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ অনুসারে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.