নিউজ ডেস্ক।।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় হলে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার, ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ ও গুজব সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ পরীক্ষার্থীকে আটক ও দু’জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শুক্রবার পরীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অন্য দিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো প্রশ্নফাঁসের তথ্যটি সম্পূর্ণ গুজব। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা পাইনি। যদি কারো কাছে তথ্য থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। গতকাল পরীক্ষার শুরুতে রাজধানীর ইডেন কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। পরে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জাবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এত বিরাট সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ তার মধ্যে একটি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহের চেষ্টা করাকালে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আর লালমনিরহাট আদর্শ মহাবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা ভণ্ডল করার চেষ্টা করায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এসব পরীক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল দাবিকারী। তারা আগের পরীক্ষার পর প্যানেলের দাবি তোলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে না দেয়া। তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্রের অন্য প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।
তিনি আরো জানান, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মাদারীপুরের চর মোহরিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই পরীক্ষার্থীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া দেশের ২২ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ২২টি জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়োগে আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন চাকরিপ্রার্থী। সেই হিসাবে প্রতি পদের জন্য লড়ছেন ২৯ জন। আর দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে ৩০ জেলায় এবং ৩ জুন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩১টি জেলায়। পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া মোট ৬১ জেলার প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
