এইমাত্র পাওয়া

মাত্র ৮ জনের কাছেই আছে বিশ্বের ৩৮০ কোটি লোকের সম্পদ

  • অনলাইন ডেস্ক।।

বিশ্বে অতি সম্পদশালী আর দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসাম্য বেড়েই চলেছে। বিশ্বের শীর্ষ আটজনের ধনীর সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের অর্ধেক মানুষ অর্থাৎ ৩৮০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের সমান।

যা এর আগের বছর ছিল ২৬ জনের কাছে। অর্থাৎ যতই দিন যাচ্ছে ততই বেশিরভাগ সম্পদ কম মানুষের কাছে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। আর গরিবরা হচ্ছে আরও গরিব। বিশ্বের সম্পদ এভাবে এক হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে অলাভজনক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফাম এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে অক্সফাম জানিয়েছে, করোনাকালীন সময়েও বিশ্বের ধনীরা আরও ধনী হয়েছে এবং দরিদ্ররা হয়েছে দরিদ্রতর। সম্পত্তির এই বিশাল ব্যবধানের কারণে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শীর্ষ ধনীদের আয়ে ১ শতাংশ সম্পদ কর আরোপ করা গেলে বছরে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ডলার অর্থ আসবে। এই অর্থ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে না এমন ২৬ কোটি ২০ লাখ শিশুকে শিক্ষা দেয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ৩৩ লাখ মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।

অক্সফামের মতে, ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে বর্তমানে বিলিয়ন ডলারের মালিক ২ হাজার ৭৫৫ জন। এবং ২০২০ সালে তাদের সম্পদ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। যা ২০২১ সালে ২৫% বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার কোটি ডলার। তাদের সম্পদ প্রতিদিন বেড়েছে ২৯০ কোটি ডলার। বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পত্তি বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ। বিপরীতে বিশ্বের দরিদ্র অর্ধেক মানুষের সম্পত্তি কমেছে ১১ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সমান সম্পত্তি জমা হয়েছে বিলিয়নিয়ারদের হাতে।

সম্প্রতি বিষয়টি সামনে এসেছে ইলন মাস্কের টুইটার কেনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টুইটার কিনতে ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে রাজি ইলন মাস্ক। অবশ্য অন্য মাধ্যমগুলোতে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কথা বলা হয়েছে।

বিশ্বের ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পদ আটজনের হাতে!

অপরদিকে শ্রীলঙ্কার ঋণ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

ইলন মাস্কের এই প্রস্তাবের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শ্রীলঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

টুইটার কেনার বদলে শ্রীলঙ্কাকে কিনে নিতে ইলন মাস্কের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মাসুদ জাহিদ নামে কলম্বোর এক বাসিন্দা।

তিনি বলেছেন, আপনি এর (টুইটার) বদলে শ্রীলঙ্কা কিনতে পারেন? আমরা এই মুহূর্তে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে চালিয়ে নিতে পারবো।

আরো বলা হয়, শ্রীলঙ্কার নাম পরিবর্তন করে তিনি দেশটি কিনে নিতে পারেন আর নিজেকে ‘সিলন মাস্ক’ বলতে পারেন (সিলন শ্রীলঙ্কার পূর্বনাম)।

তবে কেউ কেউ এ ধরনের পরিস্থিতিতে মোটেও খুশি নন। তাদের মতে, মাত্র একজন ব্যক্তি একটি দেশের সব ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতাবান হওয়া সম্পদ পুঞ্জিভূতকরণের প্রমাণ এবং এটি মোটেও শুভ নয়।

সঞ্জয় নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ইলন মাস্ক টুইটার কিনতে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছেন। আর শ্রীলঙ্কা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ঋণ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পৃথিবীতে মৌলিকভাবেই কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিশ্বের ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পদ আটজনের হাতে!

পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের সম্পত্তি বৃদ্ধির হার গুগলে সরাসরি দেখানো হয়। যা দেখলে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠে যায়। ইলন মাস্কের প্রতি ১০ মিনিটে আয় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। যা টাকায় ১৯ কোটি ১৬ লাখের উপরে।

বর্তমান বিশ্বে ন্যায় ও সাম্যের কথা বলা হলেও, পুঁজিবাদ যে সারা পৃথিবীকে গ্রাস করেছে তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্নটা থেকেই যায়, পৃথিবী কি সঠিক নিয়মে চলছে? আর যদি সঠিকভাবেই চলে, তাহলে কে নেবে এই শ্রীলঙ্কার দায়ভার, কেইবা নেবে হতদরিদ্র না খেয়ে থাকা মানুষদের দায়িত্ব।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ধনী ব্যক্তি

এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন টেলসা’র সিইও ইলন মাস্ক । ব্লুমবার্গ বিলিনিওয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্ক ২০২১ সালে তার মোট সম্পদের সঙ্গে ১২১ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। ৫০ বছর বয়সী প্রতিভাবান ইলন মাস্কের মোট সম্পদ ৩০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। তিনি থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। ইলন মাস্কের আয়ের সিংহ ভাগই প্রযুক্তিখাতে । উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে টেসলা এবং স্পেসএক্স।

আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। অবশ্য তার মোট সম্পদের সঙ্গে খুব একটা যোগ করতে পারেননি। সিএনবিসি জানিয়েছে, ১৯৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি। মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। জেফ বেজোসের বয়স ৫৮ , আমেরিকার সিএটেল এর বাসিন্দা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইকমার্স ওয়েবসাইট এমাজনের উদ্যোক্তা ও সিইও জেফ বেজোস কিছুদিন আগেও ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

তৃতীয় স্থানটি বার্নার্ড আর্নল্টের। তার মোট সম্পদ ১৭৬ বিলিয়ন ডলারের (তিনি ২০২১ সালে ৬১ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন) । আর্নল্ট হল বিলাস দ্রব্য এলভিএমএইচ-এর সিইও। যারা লুই ভিটন, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর এবং গিভেঞ্চির মতো ব্র্যান্ডের মালিক ৷

চতুর্থ স্থানে আছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তার মোট সম্পদ ১৩৯ ডলার বিলিয়নে বেড়েছে। ২০২১ সালে মোট সম্পদের সঙ্গে ৭ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন তিনি।

গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ১৩০ বিলিয়ন ডলার নেট মূল্যের সাথে ২০২১ সালে ৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন, পৃথিবীর পঞ্চম ধনী ব্যক্তি।

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ ১২৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। তিনি এই বছর ২৪ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন।

সপ্তম স্থানে গুগলের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ১২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদের সাথে ২০২১ সালে ৪৫ ডলার বিলিয়ন যোগ করেছেন।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, মাইক্রোসফটের প্রাক্তন সিইও এবং এনবিএর লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্সের মালিক স্টিভ বালমার, ২০২১ সালে ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন এবং তার মোট মূল্য ১২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ক্লউড মেজর ওরাকলের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ১০৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে (২০২১ সালে ২৯ বিলিয়ন ডলার যোগ করে) নবম স্থানে থেকেছেন।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সিইও ওয়ারেন বাফেট নেট মূল্য ১০৯ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালে ২১ বিলিয়ন ডলার যোগ করে দশমতম স্থানে ছিলেন তিনি। বিশ্বের এই ১০ জন ধনী ব্যক্তি ২০২১ সালে প্রায় ৪০২.১৭ ডলার বিলিয়ন যোগ করেছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.