বিজ্ঞান ক্লাসে আলোচনার ঘটনায় কারাভোগের পর মুক্ত মুন্সীগঞ্জের স্কুলশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল নিজ কর্মস্থলে ফিরে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন। তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হাই তালুকদার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্তের কাজ শুরু করেন।
তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন। এছাড়া শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
প্রফেসর মো. আবদুল হাই তালুকদার জানান, শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের ঘটনার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তাকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আমি মামলার বাদীসহ স্কুল শিক্ষক- শিক্ষিকা, ছাত্র আইনজীবী ছাড়াও এই ঘটনা যারা দেখেছেন ও জানেন তাদের থেকে সব কথা শুনব লিপিবদ্ধ করব।
আবদুল হাই আরও বলেন, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আজ ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি।
তদন্তের কাজে সহযোগিতা করেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক রাসেল কবির, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক, বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
চলতি বছরের ২০ মার্চ হৃদয় চন্দ্র মন্ডল বিজ্ঞান ক্লাস নেওয়ার সময় তার কথা অডিও রেকর্ড করে কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
২২ মার্চ একদল শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে; তাদের সঙ্গে কিছু বহিরাগতও যুক্ত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে হৃদয় মন্ডলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ওই রাতেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মী বিশ্বাসকে অপমানিত করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৫/২৯৫ক ধারায় মুন্সীগঞ্জ থানায় বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী (ইলেক্ট্রিশিয়ান) মো. আসাদ মামলা করেন এবং হৃদয় মন্ডলকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ১৯ দিন পর কারাগার থেকে মুক্ত হন বিজ্ঞানের এই শিক্ষক।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
