অনলাইন ডেস্ক।।
দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ না থাকলে পরিস্থিতি কী হতো, তা নিয়ে বলাবলি হচ্ছে পুঁজিবাজারে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠার পর বাজারে এই পরিস্থিতি কখনও হয়নি।
সূচক উঠানামা করে দরপতন নয়। শুরু থেকেই নিম্নমুখি সূচক লেনদেন শেষ হওয়ার আগে নামল আরও নিচে। আগের সপ্তাহের মতোই প্রথম দিন সূচক বাড়ার পর টানা পতনের স্মৃতি আবার ফিরে এসেছে। পর পর দুই দিন দরপতন দেখল পুঁজিবাজার। সোমবার ২৩ পয়েন্টের পর মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) কমল তার প্রায় তিন গুণ-৬৪ পয়েন্ট।
এক দিনে ৩৩৭টি শেয়ারের দরপতনের বিরল সাক্ষী হলো বিনিয়োগকারীরা। বিপরীতে বেড়েছে কেবল ১৮টির দর। দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ না থাকলে পরিস্থিতি কী হতো, তা নিয়ে বলাবলি হচ্ছে পুঁজিবাজারে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠার পর বাজারে এই পরিস্থিতি কখনও হয়নি।
শেয়ার কেনায় আগ্রহ নেই। বরং হাতে থাকা শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন মূল্যে বসিয়ে রেখে বিনিয়োগকারীরা বেচে দিতে চাইছে আরও লোকসানের আশঙ্কায়। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
অথচ রোজায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের বড় বিনিয়োগের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। তার আগে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোও একই কথা দিয়েছিল।
অথচ রোজার ১০ দিনে আট কর্মদিবসে সূচক কমল ১৯৭ পয়েন্ট। আর এর মাধ্যমে সূচকের অবস্থান নেমে গেল গত ৮ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৭৪ পয়েন্ট, আর ৮ মার্চ ছিল ৬ হাজার ৪৭৪ পয়েন্ট।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দর হারিয়েছে ৩৩৭টি কোম্পানি। যার দুই শতাধিক দর হারিয়েছে পতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ ও এর কাছাকাছি। ক্রেতা ছিল না বিপুল সংখ্যক শেয়ারের।
আগের দিনের চেয়ে আরও কমে লেনদেন নেমেছে ৫৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়, যা গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। গত ৬ এপ্রিল পাঁচ শ কোটির ঘরের নিচে নেমে আসে। সেদিন হাতবদল হয় ৪৯০ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৫৭ কোটি টাকা।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, টেলিকমিউনিকেশন, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং সেবা ও আবাসন খাতের সব কটি কোম্পানি দর হারিয়েছে।
সাধারণ বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য প্রযুক্তি, কাগজ ও পাট খাতে একটি করে, জীবন বিমা, ব্যাংক, বস্ত্র, বিবিধ ও প্রকৌশল খাতে দুটি করে, ওষুধ ও রসায়ন এবং আর্থিক খাতে কেবল তিনটি করে কোম্পানির দর বেড়েছে। কোনো রকমে দর ধরে রাখতে পেরেছে ২৩টি কোম্পানি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
