এইমাত্র পাওয়া

বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন কমেছে সূচক

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

টানা দরপতন আর লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কয়টি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। আর ডিএসইতে গতকাল এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

গত সোমবার থেকে আবার টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। এমনকি প্রতিদিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ক্রেতার ঘর শূন্য পড়ে থাকছে। অর্থাৎ এসব শেয়ারের ক্রেতাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। যার ফলস্বরূপ লেনদেনও ধারাবাহিকভাবে কমছে। ধারাবাহিকভাবে লেনদেন কমে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের ১১ এপ্রিলের পর ডিএসইতে আর এত কম লেনদেন হয়নি। গত বছরের ১১ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেন হয় ৪৫৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৬৬২ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা তিন দিনের পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমল ১০৯ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৪৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯৩টি। আর ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকায় স্থান করে নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন দামে পৌঁছে যায়। এরপরও লেনদেনের এক পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে।

লেনদেন খরার বাজারে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাট্টালী টেক্সটাইল। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, বিবিএস ক্যাবলস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, ওরিয়ন ফার্মা, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিং মিলস এবং নাহি অ্যালুমেনিয়াম।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৬টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এসএমই বাজার : টানা দুই দিনের হল্টেডের পরে বুধবার কারেকশন বা দর সংশোধন হয়েছে এসএমই মার্কেটের কোম্পানিগুলোর শেয়ার। যাতে করে মূল্যসূচক কিছুটা কমেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ডকে। ডিএসইতে সোমবার এসএমই মার্কেটের সূচক ১৯৬ পয়েন্ট বা ১৭.৩৩ শতাংশ ও মঙ্গলবার ২৪৪ পয়েন্ট বা ১৮.৩৪ শতাংশ বাড়ে। ওই দুই দিন প্রায় সবগুলো কোম্পানির শেয়ার হল্টেড হয়ে পড়ে। তবে বুধবার এই বাজারে কিছুটা কারেকশন হয়েছে। এদিন মূল্যসূচক কমেছে ৪৪ পয়েন্ট বা ২.৭৬ শতাংশ।

এ দিকে সূচকের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। এমনকি বাজার সংশোধনের দিনেও লেনদেন বেড়েছে। এতে করে মঙ্গলবারের ৩৩ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন বেড়ে গতকাল হয়েছে ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকার, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার মূল্যসূচক কমলেও লেনদেন হওয়া ৯টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের ৪.৯২ শতাংশ, কৃষিবিদ ফিডের ৪.৪৬ শতাংশ, মামুন অ্যাগ্রোর ৩.৫৭ শতাংশ, নিয়ালকো অ্যালয়েজের ২.৭৭ শতাংশ ও মোস্তফা মেটালের ০.৪১ শতাংশ দর বেড়েছে। অন্যদিকে এপেক্স ওয়েভিংয়ের ১১.৩৩ শতাংশ, বেঙ্গল বিস্কুটের ৫.০৭ শতাংশ, ওরিজা অ্যাগ্রোর ৩.০২ শতাংশ ও মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১.৯৪ শতাংশ দর কমেছে। বাকি হিমাদ্রির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় কেনার জন্য ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা না থাকায় দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন জটিলতা সমাধানের পর থেকে টানা উত্থানে রয়েছে তুলনামূলক কম দরে অবস্থান করা এসএমই মার্কেটের কোম্পানিগুলোর শেয়ার। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা গ্রহণের জন্য দু-একদিন সামান্য দর সংশোধন হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.