এইমাত্র পাওয়া

বিশেষ শিশুরা পাচ্ছে নতুন ভবন

নিউজ ডেস্ক।।

মৌলভীবাজার জেলার বিশেষ শিশুদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্লুমিং রোজেস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে। ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। জেলা পরিষদ মৌলভীবাজার এর অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হবে।

১৬ বছর থেকে বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি ও মাঝে মধ্যে প্রশাসনের সহায়তায় চলছে এ বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজা ইয়াসমিন চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়টি অন্য বিদ্যালয়গুলোর মতো নয়। এখানে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, ডাউন সিন্ড্রম, সিপি, অটিস্টিক এই চার ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের বিশেষ পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয়। বিভিন্ন অক্ষর ও ভাষা শেখানোর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ব্যায়াম, মেশিনে ব্যায়াম, খেলাধুলা, গান, চিত্রাঙ্কন, নৃত্যের মধ্যে দিয়ে তাদের শিক্ষা দেওয়া ও প্রতিবন্ধকতা দূর করানোর চেষ্টা করা হয়।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডি ডি রায় বাবলু জানান, শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো সংকটের কারণে ১১৫ এর অধিক শিক্ষার্থী নেয়া যাচ্ছে না। জেলা পরিষদ একটি ভবন দিয়েছে, আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। এই ভবন পর্যাপ্ত নয় আরো অন্তত দুইটা ভবন প্রয়োজন। কারণ এই বাচ্চাদের শ্রেণিকক্ষ পুরোপুরি ব্যতিক্রম করে তৈরি করতে হয়আমরা আশাবাদী ২০২৩ সালে নতুন ভবনে যেতে পারবো

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মোট ১১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিশেষ শিশুদের এই বিদ্যালয়টি। এর মধ্যে ছেলে ৭৫ জন ও মেয়ে ৪০ জন। এই স্কুলটির শুরু ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালক ডি ডি রায় বাবলুর নিজ বাসায় ২০০৬ সালে। এরপর বাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয় ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত এই ভাড়া বাসায় পাঠদান চলছে।

বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনকে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন থেকে বেতন দেওয়া হয় বাকিদের স্কুল তহবিল থেকে দেওয়া হয়।

ব্লুমিং রোজেস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মল্লিকা রানী গোস্বামী জানান, এই বাচ্চাদের সামলানো ও শিক্ষা দেওয়া অনেক কষ্ট। বিভিন্ন সংকটের কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। সংকটের কারণে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাচ্ছে না। আমরা সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সহায়তা পাচ্ছি, কিন্তু এই স্কুল পরিচালনায় আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহর রহমান জানান, এই শিশুদের প্রতি আমার দরদ ও ভালোবাসা রয়েছে। এই শিশুদের মা-বাবা হিসেবে আপনারা আপনাদের সন্তানদের বোঝা ভাববেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছেন। সেটা খুব বেশি দূরে নয়, সকল প্রতিবন্ধী শিশুরা ভাতা পাবেন। এই সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে, শিগগিরই প্রতিবন্ধীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.