নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গত এক দশকে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমে গতিশীলতা বেড়েছে। আমানত, ঋণ, গ্রাহক, মুনাফা সবক্ষেত্রেই ব্যাংকটির উন্নতি হয়েছে। বেড়েছে মোট সদস্য। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটির অংশগ্রহণও বেড়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক প্রকাশিত মাসিক তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়ার পর অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন ব্যাংকের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। বরং প্রায় সবক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে। ব্যাংকের সমিতিগুলোতে নেতৃত্বের পরিবর্তন, কর্মীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চনা দূর করা, সদস্য ও ঋণগ্রহীতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। ডিসেম্বর মাসে ঋণ বিতরণ হয়েছে এক হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। ওই মাস শেষে ব্যাংকটির সদস্য ছিলেন ৯৪ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৩ জন। গত ১০ বছরে ব্যাংকটির বৃত্তি দেওয়া, অতিদরিদ্রদের ঘর বানানোর ঋণ, শিক্ষা ঋণ, উচ্চ শিক্ষার ঋণ বিতরণও বেড়েছে। আর গত ডিসেম্বর শেষে আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
এর ঠিক ১০ বছর আগে অর্থাৎ যে বছরে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান সে বছরের শেষে ব্যাংকটির ঋণ স্থিতি ছিল ৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ডিসেম্বর শেষে গ্রামীণ ব্যাংকে আমানতের স্থিতি ছিল ১১ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা, যার ৫৭ শতাংশ ছিল ব্যাংকটির সদস্যদের রাখা আমানত। ওই বছর শেষে মোট সদস্য ছিলেন ৮৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৮ জন।
বয়সের বিধি-নিষেধের কারণে ২০১১ সালে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়তে বাধ্য হন। ওই বছরের ১২ মে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা নিয়েছেন। ব্যাংকটির তৎকালীন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর জাহান বেগমকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু কর্মী, কিছু ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ ও ড. ইউনূস নিজে তার অনুপস্থিতিতে ব্যাংকটি ঠিকমতো পরিচালিত হবে কিনা- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম সাইফুল মজিদ করোনা অতিমারি শুরুর সময়ে ২০২০ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন। তিনি সমকালকে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে। এক সময় ব্যাংকটি কিছু কর্মী ও কিছু সমিতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। এখন আর সেই অবস্থা নেই। অন্যদিকে পদোন্নতি নীতিমালা করে একসঙ্গে দুই হাজার ৬০০ কর্মীর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা নতুন উদ্দীপনায় কাজ করছেন। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটি এগিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্য তাহসিনা খাতুন সমকালকে বলেন, সবকিছু মিলিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ভালো চলছে। লাভ হচ্ছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
