নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বইমেলার শেষ ছুটির দিনে গতকাল পাঠক লেখকে সরগরম ছিল দুই প্রাঙ্গণ। বেলা ১১টা থেকে ভিড় জমে শিশু-কিশোর আর শিক্ষার্থীদের। বিকেল নামতেই সব শ্রেণীর মানুষের আগমনে উৎসবে পরিণত হয় মেলা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মেলা শুরুর পর শুক্র ও শনিবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। ভালোয় ভালোয় মেলা শেষ হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।
এ দিকে ‘চৌর্যবৃত্তির’ অভিযোগে মেলায় ‘মাতাল রাজ্জাক : গীতিমালা’ গ্রন্থটির প্রবেশ, প্রদর্শন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বইটি সম্পাদনা করেছেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. তপন বাগচী। মরমি সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান ফাউন্ডেশনের অভিযোগ, ড. তপন বাগচী ও প্রকাশক জামাল নাসের মুকুলের যোগসাজশে ‘চৌর্যবৃত্তির’ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। গ্রন্থস্বত্ব দেখানো হয়েছে কবির বড়পুত্র ও তার পরবর্তী বংশধরকে। এতে কবির দুই সন্তানের ভেতর যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে, সেটাকে এখানে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য ‘বাউল অঞ্জলী’র গান ও অন্যান্য বিষয় নকল করে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. তপন বাগচী ‘মাতাল রাজ্জাক : গীতিমালা’ নাম দিয়ে এবার বাজারে এনেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে ‘আলোকায়ন’ নামে একটি প্রকাশনী। এটির কর্নধার জামাল নাসের মুকুল। আলোকায়ন প্রকাশনী জানিয়েছে, বইটিতে নিষেধাজ্ঞা আসায় তা স্টল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। যদিও ড. তপন বাগচী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক (বিক্রয়, বিপণন ও পুনর্মুদ্রণ বিভাগ) এবং অমর একুশে গ্রন্থমেলার সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বইটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জানা যায়, কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ানের সহধর্মিণী নাসিমা দেওয়ান গোধূলীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে দু’টি গ্রন্থ প্রকাশ করে ‘মরমি সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান ফাউন্ডেশন’। এ ফাউন্ডেশনের সংকলন ও সম্পাদনা পরিষদ দীর্ঘ সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে মরমি সাধক মাতাল কবি আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান স্মারকগ্রন্থ ‘যদি ভুল বুঝে চলে যাও’ প্রকাশ করে ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। এই গ্রন্থটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন ইকবাল জাফর এবং সম্পাদক ছিলেন মহসীন দেওয়ান লিটন।
এর পর শ্রমসাধ্য পথ পেরিয়ে ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাতাল রাজ্জাকের লেখা গানের সংকলনের প্রথম খণ্ড ‘বাউল অঞ্জলী’ বের করে ফাউন্ডেশন। এ গ্রন্থটির সংকলন ও সম্পাদনায় ছিলেন ইকবাল জাফর, মহসীন দেওয়ান লিটন, সুজন দেওয়ান, উম্মে সালমা মামণি ও কামাল দেওয়ান। মেলায় বাংলাদেশ পুলিশের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি বিভাগ নিয়ে এসেছে ‘পরিবর্তনের অভিযাত্রা, ‘নাগরিক অভিমত’, ‘স্বপ্নযাত্রার অগ্রনায়ক’ নামে তিনটি বই।
এতে ২০২০ সালে পুলিশ বাহিনীর প্রধান (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) যেসব অনন্য ভূমিকা রেখেছেন তার প্রামাণিক দলিল তুলে ধরা হয়েছে। বইগুলোর সম্পাদক পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো: কামরুজ্জামান বিপিএম। নির্বাহী সম্পাদক সহকারী পুলিশ সুপার (মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি) মো: ইমরান আহম্মেদ। এ ছাড়া গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ওমর বিশ্বাসের কিশোর রহস্য উপন্যাস সামুরা। প্রকাশনায় ‘কালো’।
প্রকাশনা সংস্থা রিদম প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কবি সেলিনা শিউলীর কাব্যগ্রন্থ ‘এপিটাফ বুনে দিও শিশিরে’। এ ছাড়া পারিজাত প্রকাশনী প্রকাশ করেছে তাহমিনা কোরাইশীর ‘নির্বাচিত কিশোর গল্প’। অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিনে গতকাল মেলা চলে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় একুশের গল্প ও উপন্যাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকুর রশীদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পাপড়ি রহমান এবং স্বকৃত নোমান। সভাপতিত্ব করেন ইমদাদুল হক মিলন। সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
