এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখল

গাজীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে আড়াল টেকপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নামে একটি দিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রহিয়াছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এমপিওভুক্ত। সবকিছু ভালোমতোই চলিতেছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে মাদ্রাসার নামে জমিদাতার ওয়ারিশদারগণের হুমকিধমকি ও বাধা প্রদান এবং চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ শ্রেণিকক্ষ হইতে বাহির করিয়া ভাঙচুর ও পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলিয়া দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়িয়াছে বিপাকে। অগত্যা এখন তাহারা দুই সপ্তাহ যাবত্ খোলা আকাশের নিচে পড়াশুনা করিতেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সাধারণত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এমন দুর্ভোগ পোহাইয়া থাকে। কিন্তু এইক্ষেত্রে ঘটনাটি ব্যতিক্রম। জমিদাতার তৃতীয় প্রজন্ম নাতি-নাতনিরা মাদ্রাসার জমি দখলের স্বার্থে এমন ন্যক্কারজনক হামলা চালাইয়াছে। বিষয়টি চিন্তার উদ্রেক করে বটে।

১৯৭৬ সালে আড়াল টেকপাড়া মসজিদের পার্শ্বে যিনি ১০ শতাংশ জমি দান করিয়াছিলেন তাহার নাম কুদরত আলী সরকার। তাহার উদ্দেশ্য ছিল সত্ ও মহত্। তিনি চাহিয়াছিলেন মসজিদের পার্শ্বে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা হইবে, যেইখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআনের পাঠগ্রহণ করিবে এবং সাদকাতুল জারিয়া হিসাবে তিনি তাহার সওয়াব কবরে শুইয়া পাইতে থাকিবেন। কিন্তু তাহার একপক্ষের নাতনিরা এখন বাদ সাজিয়াছে। রাস্তার ধারের এই জমিটির মূল্য বাড়িয়া যাওয়ায় তাহাদের নজর পড়িয়াছে এই প্রতিষ্ঠানের জায়গা-জমির উপর। তাহারা এইজন্য একটি ফাঁকফোকরও বাহির করিয়াছে। জমিদাতা জমিটি দিয়াছিলেন ফোরকানিয়া মাদ্রাসার জন্য এবং দানপত্রে লিখা রহিয়াছে যে, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ব্যতীত অন্য কাজে জমি ব্যবহূত হইলে তাহা তাহার ওয়ারিশদের নিকট ফেরত দিতে হইবে। ইহা একটি ছুতা বা অজুহাত মাত্র। ফোরকানিয়া মাদ্রাসা হইল প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরবর্তীকালে ইহা এবতেদায়ি তথা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হইয়াছে। কিন্তু শব্দগত পার্থক্যকে অবলম্বন করিয়া একপক্ষের ওয়ারিশরা এখন তাহা দখল করিবার অপচেষ্টা চালাইতেছে।

বাংলাদেশে জায়গা-জমির মালিকানা নিয়া নানা সমস্যা রহিয়া গিয়াছে। ভূমিব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কথা বলা হইতেছে এবং এইক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু উন্নতিও হইয়াছে, তথাপি সমস্যা কমে নাই। জমি-জমা নিয়া দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মামলা-মোকদ্দমা লাগিয়াই আছে। বিশেষত ওয়াক্ফ বা দেবোত্তর সম্পত্তির অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বিদ্যমান। এই সংক্রান্ত আইনকানুনের যুগোপযোগী পরিবর্তন ব্যতীত ইহার সমাধান আশা করা যায় না। ভূমির রেকর্ড ঠিকমতন রক্ষিত না হইলে ও এই সংক্রান্ত জাল-জালিয়াতির অবসান না হইলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমিবে না। আলোচ্য ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, জমিদাতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুযায়ীই জমি ব্যবহূত হইতেছে। এমপিওভুক্তির কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়াও কোনো চিন্তা নাই। সুতরাং সেইখানকার শিক্ষার্থীরা কেন তাহাদের মাদ্রাসা হইতে বিতাড়নের শিকার হইবেন? অতএব, দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে অবশ্যই আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হইবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.