এইমাত্র পাওয়া

প্রথম স্কুলে যাবে ২০ লাখ শিশু শিক্ষার্থী

 নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্রথমবারের মতো স্কুলে যাবে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। দুই বছর পর এই শিশুরা প্রথমবারের মতো স্কুলে যাবে। করোনায় স্কুল ও শ্রেণীর পাঠকার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রথম থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ল¬াসের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে কিংবা বিরতি দিয়ে হলেও সশরীরে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে এক দিনের জন্যও প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী, যাদের বয়স চার থেকে ছয় বছর তারা কোনো দিনও স্কুলে যেতে পারেনি।

ফলে করোনারকালে প্রথমে দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ছিল কম। তবে আশার কথা হচ্ছে আগামী ১৫ মার্চ থেকে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস চালুর ঘোষণা দেয়ায় এখন স্কুল না দেখা শিক্ষার্থীরাও স্কুলে ভর্তি এবং শ্রেণিকার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দুই বছর বন্ধ থাকার পর সারা দেশের প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চ থেকে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম শুরু হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সূত্র আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও মঙ্গলবার প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস হবে।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মো: মনসুরুল আলম, অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভার সূত্র মতে, করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা স্তরের প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

তবে বরাবরের মতো বন্ধ থাকে প্রাক-প্রাথমিক স্তর। ফলে দুই বছর ধরে বন্ধ প্রাক-প্রাথমিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। প্রথম শ্রেণীর আগের এই শ্রেণীগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির কয়েক মাস পরই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এই বন্ধ থাকা অবস্থায়ই। এ দিকে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সীমিত পরিসরে খুললেও প্রাক-প্রাথমিকে খোলেনি।

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার জানুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সংক্রমণ আবার কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সব ক্লাস খুলছে। সবশেষে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদেরও ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষাবিদরা বলেছেন, আগে প্রাথমিক থেকেই শুরু হতো একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রাথমিকের আগেও এক বছর একটি শ্রেণিকাঠামোর মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক নামে আরো একটি ক্লাস বাড়িয়ে শুরু করা হয় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর কার্যক্রম।

অবশ্য এর পর থেকেই বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অনেক সাফল্যও দৃশ্যমান হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা হলো প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভের আগে ছয় বছরের কম বয়সের শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। তিন থেকে পাঁচ-ছয় বছর বয়সী শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী তাদের যতেœ বেড়ে ওঠা এবং শিশুর অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই চালু করা হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। খেলাধুলা, আনন্দের মধ্য দিয়ে অক্ষরজ্ঞান এবং গণনার হাতেখড়ি দেয়াই এ ব্যবস্থার লক্ষ্য। শিশুর শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কৌশল এই ধাপ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলনের জোর সুপারিশ করেছিল সাবেক দুই শিক্ষা কমিশন। এই শিক্ষা কমিশন প্রথম শহর ও শিল্প এলাকায় যেসব শিশুর অভিভাবক বাইরে কাজ করেন, সেসব শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুপারিশ করে। মফিজউদ্দিন আহমেদ কমিশনের সুপারিশ ছিল সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণী খোলার। ১৯৯৫ সালে গঠিত ‘সবার জন্য শিক্ষা’ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আরো কিছু সুপারিশও পেশ করে।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৯৭ সালে গঠিত কমিটিও সুপারিশ করে, শিশু প্রথম শ্রেণীর প্রথম ছয় মাস প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ব্যয় করবে, এমন সুপারিশ ছিল এই কমিশনের। বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষাকার্যক্রম চালু করেছে। প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের অনেক শিশুই সরকারি প্রাক-প্রাথমিক ক্লাসে যোগদান করছে। যেসব শিশুর অভিভাবক কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্য শিক্ষিত নন, এমন অনেক শিশু প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নানা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। সূত্র আরো জানায়, প্রায় ৩৮ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকার্যক্রম চলমান।

ভবিষ্যতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই এ কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, ৩৮ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ৫০ জন শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ। অবশ্যই এ সংখ্যাই শেষ নয়। দেশের বিরাট অংশের শিশুরা বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন কিংবা এনজিওর বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.