হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(হাবিপ্রবি) পরিবহন ট্রিপে আজ থেকে প্রথমবারের মতো চালু হলো ছাত্রীদের জন্য আলাদা বাস। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাস গুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে চলাচল শুরু করেছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য গত ২০ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রীদের জন্য আলাদা বাস দিয়ে সময়সূচি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা। প্রকাশিত বাসের সময়সূচি অনুসারে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মোট ৪৪ টি ট্রিপের মধ্যে ৬ টি ট্রিপ শুধু মাত্র ছাত্রীদের জন্য চালু থাকবে এবং বাকি ট্রিপ গুলোই ছাত্র ছাত্রী উভয় যাতায়াত করতে পারবে। হাবিপ্রবি প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি ছাত্রীরা।
হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, দুপুর ১টা ১৫মিনিটে এবং বিকাল ৫টায় শুধু ছাত্রীদের জন্য ৩টি বাস শহরের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এছাড়াও সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলা শহরের সুইহারী নামক স্থান থেকে, দুপুর ২টায় এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বড়ো মাঠ থেকে ছাত্রীদের জন্য ৩টি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এই সময়সূচি ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মাসুমা আশরাফ হিমু জানান, “চার বছর ধরে ক্যাম্পাসে আছি অথচ প্রথমবারের মতো ছাত্রী হয়ে আমরা আলাদা বাস সার্ভিস পেয়েছি। যে জিনিসটা নিয়ে আমরা হয়তো কখনো সেভাবে চিন্তাও করি নাই আমাদের ক্যাম্পাসের অভিভাবকেরা সেটা নিয়ে চিন্তা করেছেন এবং পদক্ষেপ নিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই হাবিপ্রবি প্রশাসনকে ছাত্রীদের জন্য এত সুন্দর একটা উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।”
বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী নাজিয়া জামান বলেন, ‘আমরা ছাত্রীরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ প্রশাসনের প্রতি এ রকম ছাত্রীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য। পূর্বে অনেকেই ছেলে-মেয়ে একসাথে গাদাগাদি করে বাসে যাওয়া আসাতে অস্বস্তি বোধ করতো। প্রশাসনের কাছে আমরা এমনই ছাত্রীবান্ধব সিদ্ধান্ত আশা করি। ক্যাম্পাসের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ছাত্রীদের জন্য এমন সিদ্ধান্তে আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত।’
এ ব্যাপারে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য পৃথক বাস ট্রিপ নিয়মিত ভাবে চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার এর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এই উদোগ গ্রহণ করি। এর জন্য স্যার কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ছাত্রীদের ট্রিপ এর প্রয়োজনীয়তা এবং কার্যকরী সূচি নির্ধারন করার জন্য হাবিপ্রবি স্কাউট এর সহযোগিতায় একটি জরীপ করে তথ্য সংগ্রহ করি। এছাড়াও কয়েক জন শিক্ষার্থীও সরাসরি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তাদের সবাই কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সুযোগ -সুবিধা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কে মনে রাখতে হবে আমাদের সীমিত সম্পদের কথা। শিক্ষার্থীদের কে আমি তাদের সমস্যাদি সরাসরি আমাদের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগে অবহিত করার জন্য আহবান জানাই। সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিসেবা দিতে বিশ্বিবদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার একটি “ইনোভেশন কমিটি” গঠন করে দিয়েছেন। চাইলে শিক্ষার্থীরাও এই কমিটি কে পরিসেবা বিষয়ক বিভিন্ন আইডিয়ার কথা লিখে জানাতে পারে।”
উল্লেখ্য যে, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে হাবিপ্রবির সকল শিক্ষাবর্ষের স্বশরীরে শ্রেণী কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং ৬ মার্চ ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের স্বশরীরে শ্রেণী কার্যক্রম চালু হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
