এইমাত্র পাওয়া

বাংলাকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তথ্যপ্রযু

অনলাইন ডেস্ক।।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য অসাধারণ কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। অনেকেই তাদের অবদানের কথা না জানলেও এ কাজটি বাংলার ভাষার এগিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার বিকেলে আগারগাঁও এর আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে। এ প্রতিযোগিতায় দশটি দল পুরস্কার পেয়েছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দলের সম্মান পেয়েছে ‘অভিযাত্রিক’ দল। 

সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল তিনটি ধাপে ১৬১ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেরা দশটি দল নির্বাচন করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাবিল মুহাম্মদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন) এহছানুল পারভেজ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের উদ্যোগে বাংলাভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন টেকনোলজি তৈরি ও গবেষণায় উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় ১৬১টি দল অংশ নেয়।

বিচারকরা তিন ধাপে সেরা দশটি দল নির্বাচন করেন। এ দলগুলো হচ্ছে— অভিযাত্রিক দলের ‘বাংলা হাতের লেখাকে কম্পোজে রূপান্তর’, এক্সএমএল ইন্ডিক দলের ‘ভারতীয় ভাষাসমূহের মডেলিং’, সাস্ট ড্রিমার্স দলের ‘এনএলপি বাংলা টুলকিট’, ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেডের ‘রশিদে লিখিত বাংলা হাতের লেখার রিডিং’, অনুমিতি দলের ‘ন্যাচারল ল্যাংগুয়েজ ইনফারেন্স ডেটাসেট’, বিয়ন্ড দ্য হিলস দলের ‘বাংলাদেশের ইন্ডিজেনাস কমিউনিটির জন্য অনুবাদ টুলস তৈরি’, একুশ দলের ‘বাংলা হাতের লেখা ডেটাসেট’, ড্যাব দলের ‘বাংলা অথরশিপ অ্যাট্রিবিউশন’, রক্তিম দলের’ বাংলা এনইআর ডেটাসেট’ এবং ইনোভেশন গ্যারেজ দলের ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ডক-রিডার’। এর মধ্যে ‘হাতের লেখা ও প্রিন্টেড ডকুমেন্টে বাংলা বর্ণ শনাক্তকরণ’ প্রকল্পের জন্য ‘অভিযাত্রিক’ দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে এক লাখ টাকা সহ দশটি দলকে মোট তিন লাখ ষাট হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিচারক প্যানেলের প্রধান ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা হায় হুতাশ করেছেন, আমার বাংলা ভাষা বুঝি শেষ হয়ে গেল। বাংলা ভাষার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কারণ একটা সময় ছিল বাংলা ভাষা নিয়ে কেবলমাত্র ভাষাবিদ, কবি সাহিত্যিক লেখকরা কাজ করতেন। এখন আস্তে আস্তে অন্য একটা সময় চলে এসেছে। এখন ভাষার জন্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা কাজ করছে। গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে বাংলা ভাষাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এটা ভেবেও ভালো লাগছে যে বাংলা এবং ভাষাকে তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যবহার করার জন্য একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.