এইমাত্র পাওয়া

আস্থাহীনতায় ব্যাংকের শেয়ার ছাড়ছে বিদেশিরা

নিউজ ডেস্ক।।

দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণখেলাপিদের নানা সুবিধা দেওয়া হলেও কাজ হচ্ছে না তাতে। উল্টো দিন দিন বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এটা বাড়তে বাড়তে ছাড়িয়ে গেছে লাখ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে ব্যাংকের এমন পরিস্থিতি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে আস্থাহীনতায় ব্যাংকের বিপুল শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ২৭টির শেয়ারে বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২১টি ব্যাংকের বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে বিদেশিরা। বাকি ছয়টির মধ্যে চারটির শেয়ার নতুন করে কিনেছে বিদেশিরা। আর দুটির শেয়ার ধারণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিদেশিদের ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সার্বিক ব্যাংক খাত এক ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। ফলে ব্যাংকের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। এছাড়া ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণেই বিদেশিরা ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ব্যাংক খাতে বর্তমানে বিদেশিদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকে। ২০২১ সালে এই ব্যাংকটির প্রায় দুই শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বিদেশিরা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির ৩৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশিদের কাছে, যা কমে ২০২১ সাল শেষে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে। অবশ্য চলতি বছরের প্রথম মাসে এই ব্যাংকটির কিছু শেয়ার কিনেছে বিদেশিরা। এতে জানুয়ারি শেষে ব্যাংকটির ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার আছে বিদেশিদের কাছে।

বিদেশিদের বিনিয়োগের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাংকটির শেয়ারও বিক্রি করেছে বিদেশিরা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির ২০ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশিদের কাছে, যা কমে ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ১৯ শতাংশে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই ব্যাংকটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। জানুয়ারি শেষে ব্যাংকটির ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে বিদেশিদের কাছে।

বিদেশিরা আরও যেসব ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করেছে তার মধ্যে রয়েছে- এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউসিবি এবং উত্তরা ব্যাংক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.