সকাল সকাল হঠাৎ করেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি পুকুরে কুমির এসেছে। খবর শুনে কুমির দেখতে ভিড় জমান শত শত মানুষ। উৎসুক জনতার পাশাপাশি পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লোকজন উপস্থিত হন। কুমির ধরতে নামানো হয় জাল। তাতেও সন্ধান মেলেনি কুমিরের। উপায় না দেখে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী পুকুরের পানি সেচতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত পুকুরের পানি কমে এলে আজ রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উদ্ধার করা হয় কুমিরটিকে।
উপজেলার মিঞাপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক রফিকুল ইসলামের পুকুর থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মিঠাপানির পূর্ণবয়স্ক কুমির। কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে কুমিরটিকে রাজশাহী বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।
রফিকুল ইসলামের প্রতিবেশী মনিমুল ইসলাম (২৫) বলেন, রোববার সকাল সাতটার দিকে পুকুরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, একটি কুমির মাঝে মাঝে মাথা উঁচু করে পাড়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এ সময় তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাঁরাও কুমিরটি দেখতে পান। এরপর চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলা থেকে অনেক মানুষ কুমিরটিকে দেখতে ভিড় জমান। একে একে পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৎস্য অফিস ও বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লোকেরাও আসেন।
চারঘাট ফায়ার সার্ভিসের লিডার জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে জাল দিয়ে কুমিরটিকে ধরার চেষ্টা করা হয়। কাজ না হওয়ায় বিকেল চারটার দিকে পুকুরের পানি সেচার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পানি কমে এলে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে কুমিরটি পুকুর থেকে মাথা তোলে। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে জাল দিয়ে কুমিরটিকে আটকানো হয়। পরে কুমিরটিকে রাজশাহীতে বন বিভাগের বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর প্রথম আলোকে বলেন, এটি মিঠাপানির কুমির। কুমিরটি লম্বায় প্রায় সাড়ে সাত ফুট, ওজন প্রায় ৬৫ কেজি। মিঠাপানির কুমির হওয়ায় পদ্মা নদীতেও এরা থাকতে পারে। হয়তো পথভ্রষ্ট হয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ক্যানেল দিয়ে কুমিরটি ডাঙায় চলে এসেছে। শনিবার রাতের কোনো একসময় হয়তো ক্যানেল থেকে পুকুরের পানিতে নেমে গেছে। সৌভাগ্যবশত কুমিরটি কারও কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পুকুরে কুমির আসার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, পাশেই পদ্মা নদী হওয়ায় কোনোভাবে হয়তো নদী থেকে পুকুরে চলে এসেছে। কুমিরটিকে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান তিনি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
