নিউজ ডেস্ক।।
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি কার্ড চালু করা হচ্ছে। ১৬ ডিজিটের এই ইউনিক আইডিতে সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সব তথ্য সংরক্ষিত হবে। প্রতারণার হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা এবং সনদ ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে (ইউজিসি) সংশ্নিষ্ট সব বিশ্ববিদ্যালয় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ইউজিসিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ভর্তি-সংশ্নিষ্ট দু’জন করে কর্মকর্তা অংশ নেবেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এতে সভাপতিত্ব করবেন।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র চন্দ সমকালকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউনিক আইডি চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের সব রকমের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি, সঠিকভাবে শিক্ষার্থী নির্ণয়, ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো বন্ধ, ক্রেডিট ট্রান্সফারের নামে জালিয়াতি বন্ধ করাসহ নানা প্রশাসনিক কাজেও তা সহায়ক হবে।
ইউজিসি সূত্র জানায়, গত বছর কভিড-১৯ ভাইরাসের টিকাদানের ব্যবস্থাপনা শুরুর প্রাক্কালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি চালুর প্রস্তাব উঠে আসে। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিশেষভাবে অনুভূত হয়।
এরপরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিক আইডি চালুর পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডাটাবেস তৈরি ও সরক্ষণ করবে ইউজিসি।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৬ ডিজিটের একটি ইউনিক পরিচিতি নম্বর (টহরয়ঁব ওফবহঃরভরপধঃরড়হ ঘঁসনবৎ) থাকবে। এতে যথাক্রমে সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমিক, ভর্তির বছর, ভর্তির সেমিস্টার, হল, প্রোগ্রাম নম্বর এবং শিক্ষার্থীর রোল নম্বর থাকবে। সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি থেকে দেওয়া একটি ক্রমিক নম্বর থাকবে। এ ক্রমিক ৩ ডিজিটের হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালের ভিত্তিতে ইউজিসির দেওয়া কোড সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড হিসেবে বিবেচিত হবে। এই কোড সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউনিক আইডিতে থাকবে সংশ্নিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তির বছর কোড। এ ক্ষেত্রে যে ক্যালেন্ডার বছরে সংশ্নিষ্ট শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, সেই বছরের শেষ দুই ডিজিট বসবে। এরপর থাকবে ভর্তির সেমিস্টার কোড।
এরপর থাকবে হল কোড। এরপর আইডিতে স্থান পাবে প্রোগ্রাম কোড। ইউজিসি নির্ধারিত কোড এখানে বসবে। এরপর শিক্ষার্থীর ক্রমিক। সংশ্নিষ্ট কোর্সে/প্রোগ্রামে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তির ক্রমিক নং যা ৩ ডিজিটের হবে। সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তির ক্রম অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে হবে।
ইউজিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ইউনিক শিক্ষার্থী পরিচিতি নম্বর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর হিসেবে ব্যবহূত হবে এবং সংশ্নিষ্ট প্রোগ্রাম/কোর্স সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
কেন ইউনিক আইডি : ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মো. ওমর ফারুখ সমকালকে বলেন, বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সব তথ্য আমব্রেলা আকারে সংরক্ষণ করা হবে।
এ ছাড়া দেশের এবং বিশ্ববাজারের চাহিদা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিবেচনায় গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা নিরূপণ করা; অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম এবং আসন সংখ্যার বিপরীতে ভর্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও এই পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম কারণ।
ইউজিসির কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভেরিফিকেশন এবং সনদ ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা যাবে। ভবিষ্যতের জন্য তথ্য সুরক্ষা পাবে। ভবিষ্যতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও সনদের ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
