টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর শূন্য আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীসহ চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এএইচএম কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের উপনির্বাচনে এমপি পদে রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলে তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপির দায়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য খান আহমেদ শুভ, ভোটার আইডি কার্ডে নামের সঙ্গে মিল না থাকায় বৈরাবরি পার্টি (অনিবন্ধিত) সৈয়দ আলমগীর হোসেন, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের সঙ্গে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নুরু এবং আরজু মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
৭ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনজন প্রার্থীর মনোয়নয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও পার্টির মনোনীত প্রার্থী কমরেড মো. গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী শ্রী মতি রুপা রায় চৌধুরী।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার এএইচএম মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগামী ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর সংসদীয় শূন্য আসনের উপনির্বাচন। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই। মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই বাছাই শেষে উক্ত চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ঢাকায় ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় খতিব খান নামক এক ব্যক্তির ছয় লাখ টাকার একটি ঋণের জিম্মাদার ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। এই ঋণ খেলাপি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
খান আহমেদ শুভ জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ঋণ নই। আমি একজনের ঋণের গ্যরান্টার (জিম্মাদার) ছিলাম। ওই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্ধারিত সময়ে জানানো হয়নি। তাই খেলাপি তালিকায় নাম এসেছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে আপিলে আমার প্রার্থিতা ফিরে পাব বলে আশা করি।
উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের এমপি ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন গত ১৬ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়ে যায়। ২৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন শূন্য আসনটির নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে।
তফসিল অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। সোমবার ছিল ২০ ডিসেম্বর যাচাই বাছাই। ২৭ ডিসেম্বর প্রত্যাহার এবং ২৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণ হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
