এইমাত্র পাওয়া

একদিনে ৫০ মামলার রায় যশোরে

অনলাইন ডেস্ক।।

যশোরে একদিনে মাদক, চোরাচালান ও চেক জিডঅনারের ৫০ মামলার রায় দিয়েছেন একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) যুগ্ম দায়রা জজ ২য় ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ৭ এর বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এসব রায় দেন।

জানা যায়, রায়ে ৩১ মামলায় ৩২ আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ১৯ মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১২ জন প্রবেশনে মুক্তি ও ১ জন কারাগারে আটক আছেন, বাকি সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালান মামলায় বেনাপোলের কাগমারী গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে আকরাম আলীকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আকরাম আলী কারাগারে আটক আছেন।

টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর থানার যদুরগাটি গ্রামের আব্দুল আজিজ মাস্টারের ছেলে রাজিব হোসেনকে সাজা দিয়ে ১ বছরের প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

বেনাপোলের গাতিপাড়া মাঠপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে জহিরুল ইসলামকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত জহিরুল ইসলাম পলাতক।
বেনাপোলের বলফিল্ড এলাকার ভাড়া বাসিন্দা সাতক্ষীরা শ্যামনগরের নিলডুমুর বুড়ি গোয়ালিনী গ্রামের মৃত খোরশেদ মোল্লার ছেলে আব্দুল মজিদ মোল্লাকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ পলাতক।
চেক ডিজঅনারের ২২ মামলার মধ্যে রায়ে শার্শার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলেকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যশোর শহরতলীর শেখহাটির শাহীন মাহমুদকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তরফ নওয়াপাড়ার মৃত আফছার আলী সরদারের ছেলে আশরাফ হোসেনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬৯ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা কারা হয়েছে।

ঢাকার মতিঝিলের ৬ সি/এ বাসিন্দা এম আশরাফ আলীর ছেলে একে আজাদকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঝিরকরগাছার পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত আক্তার আলীর ছেলে শেখ আব্দুল ওয়াহীদকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯৩ হাজার ৯৫১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নড়াইলের লোহাগড়ার জয়পুর গ্রামের নগেন বিশ্বাসের ছেলে মিলন বিশ্বাসকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভয়নগরের বিভাগদি গ্রামের ক্ষিতিশ হালদারের ছেলে গোবিন্দ হালদারকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ ২০ হাজার ১৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীর মৃত রওশন আলম হায়দারের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াকুবকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯৫ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঝিনাইদাহ কালীগঞ্জের বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে আব্দুস সবুরকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চৌগাছার আফরা গ্রামের রহমত হোসেনের স্ত্রী মিনারা বেগমকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যশোর সদরের রুদ্রপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪৫ হাজার ৮শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভয়নগরের পালপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মিরপুরের পুরাতন বাজারের মৃত মেহের আলী মণ্ডলের ছেলে মনোয়ার হোসেন মানুকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪৯ হাজার ৪৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খুলনা বিকে মেইন রোডের পূর্ব বানিয়া খামার এলাকার সায়েদ আলীর ছেলে জিএম আব্দুল ওহাবকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২৬ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ২২ মাদক মামলার মধ্যে বেনাপোলের কেলেকান্দা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মিলনকে সাজা দিয়ে ২ বছরের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত।

বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়াকে সাজা দিয়ে ২ বছরের প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বেনাপোলের গাজীপুরের হিম্মত খানের ছেলে সালাহউদ্দিন খানকে সাজা দিয়ে ২ বছরের প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত।

বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে বকুল হোসেন ২ বছরের প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের সাহাজুল ইসলাম সাজুর স্ত্রী মাজেদা খাতুন মাজেকে সাজা দিয়ে ২ বছর প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বেনাপোরের বড় আঁচড়া গ্রামের অশোক দের ছেলে চঞ্চল দেকে ২ বছর সাজা দিয়ে প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার মৃত মোজাম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম নান্নুকে সাজা দিয়ে ২ বছরের প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। চৌগাছার চাঁদপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন ঢালীর ছেলে আতিয়ার রহমান ঢালীকে ২ বছর সাজা দিয়ে প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

ঝিরকগাছার শিয়ালখোলা গ্রামের গ্রামের ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান রনি ও বল্লা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে তরিকুল ইসলামে সাজা দিয়ে ২ বছর প্রবেশনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন এপিপি অ্যাডভোকেট লতিফা ইয়াসমীন (কমল)।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.