অনলাইন ডেস্ক।।
শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়ন, পদোন্নতিসহ নানা কারণে ব্যাচেলর অব অ্যাডুকেশন (বিএড) কোর্সটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ।
এ কারণে বিএড কোর্সটি আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ, সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত গ্রেড পেতে অবশ্যই এ কোর্সটি আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এটি নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্তরা নানাভাবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশের পর দশম গ্রেড পেতে হলে বাধ্যতামূলক বিএড কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এখন চিন্তা, বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানটি সরকার অনুমোদিত আর কোন প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত নয় এ নিয়ে। কারণ, এগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অভিযোগ চোখে পড়ে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকেও এ ব্যাপারে ক্লিয়ার কোন ধারণা দেওয়া হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএড করতে। কিন্তু সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ হচ্ছে খুবই সীমিত। এগুলোতে সবাই একযোগে ভর্তি হতে পারবে না। আবার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড কোর্স করতে গেলে অনেক সময় লেগে যায়।
কলেজ শিক্ষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচির আধুনিকীকরণ, উন্নতিসাধন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা বৃদ্ধিসহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সকল বিষয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিএড পাঠদানকারী প্রফেশনাল কলেজগুলো প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ভিত প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।
২০২০ শিক্ষাবর্ষে ওয়েব সাইটে প্রচারিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা মতে, বাংলাদেশে ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ১টি বিএমটিটিআই ও ৬৮টি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অভিন্ন পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিছু কলেজ তাদের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে ইতোমধ্যে ঝরে পড়েছে। মানহীন ৩৭টি কলেজকে ২০১৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লাল তালিকাভুক্ত করে। এদের মধ্যে ২৩টি কলেজ আদালতের রায় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বলা হয়, এসব কলেজ থেকে বিএড সনদের বিপরীতে স্কেল দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বেসরকারি কোনো বিএড কলেজ থেকে প্রাপ্ত সনদের বিপরীতে স্কেল দেওয়া হবে না বলে পরবর্তী আরেক সিদ্ধান্তে জানানো হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে এসব কলেজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যায়। তবে জটিলতা দেখা দেয়, মাউশি এসব কলেজ থেকে সনদধারীদের বিএড স্কেল প্রদান না করায়। এক বছর পর সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে ২৩টি কলেজ।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে আদালত আপিলের শুনানিতে ২০০৮-২০১৬ সাল পর্যন্ত যেসব শিক্ষক কলেজগুলো থেকে বিএড সনদ নিয়েছেন তাদের স্কেল দেওয়ার আদেশ দেন। তবে কলেজগুলো তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে কিনা- বা চালালেও ভবিষ্যতে তাদের সনদ গ্রহণ করা হবে কিনা এ বিষয়ে আদেশে কিছুই বলা হয়নি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
