নিউজ ডেস্ক।।
তিন দিন ভোগান্তির পর অবশেষে ভাড়া বৃদ্ধি নিশ্চিত করে প্রত্যাহার করা হলো বাস ও লঞ্চ ধর্মঘট। আজ সোমবার থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর করে সব রুটে গণপরিবহন চালানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গতকাল ভাড়া বাড়ানোর দাবি নিয়ে বাস ও লঞ্চ মালিকদের সাথে আলাদা বৈঠক করে বিআরটিএ এবং বিআইডব্লিউটিএ। তবে জ্বালানি তেলের মূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২৭ শতাংশ। অন্য দিকে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে সাধারণ মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরেকদফা বেড়ে যাবে।
এমনিতে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা, তার মাঝে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিতে নাজুক হয়ে পড়বে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাপন। এ দিকে গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় সড়কে বাস না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, তেলের দাম কমানোর জন্য নয়, ভাড়া বৃদ্ধির জন্যই ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। শেষমেশ সরকারের সাথে বৈঠক করে জনগণের পকেট থেকে বাড়তি টাকা বের করে নেবে তারা। যাত্রীরা বলছেন, গণপরিবহনের ভাড়া সব থেকে বেশি বাংলাদেশেই, তারপরও কারণে-অকারণে ভাড়া বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে।
নতুন ভাড়া নির্ধারণ : দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে গণপরিবহনে নতুন করে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সমন্বিত ভাড়া অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে বড় বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ এবং ঢাকা নগরীতে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ছে।
গতকাল রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসমালিকদের সাথে ভাড়া পুনর্র্নির্ধারণ বিষয়ক কমিটির পাঁচ ঘণ্টার আলোচনা শেষে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘এই ভাড়া কার্যকর হবে সোমবার থেকে। আজ আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’ ভাড়ার এই নতুন হার ডিজেলচালিত বাসের জন্য প্রযোজ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া এক পয়সাও বাড়ানো যাবে না, তাদের জন্য এই ভাড়া প্রযোজ্য নয়, আগের রেটে নেবে।’ বৈঠকের পর সারা দেশে তিন দিন ধরে চলা ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ খান।
দূরপাল্লার বর্তমান বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা রয়েছে। নতুন করে তা বাড়িয়ে এক টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ এতে কিলোমিটারপ্রতি যাত্রীকে বাড়তি ৩৮ পয়সা গুনতে হবে। এতে করে দূরপাল্লার একজন যাত্রীকে প্রতি পাঁচ কিলোমিটারে ১ টাকা ৯০ পয়সা বেশি ভাড়া দিতে হবে।
মহানগরে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা রয়েছে, সেটি বাড়িয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। এতে কিলোমিটারপ্রতি ৪৫ পয়সা ভাড়া বেড়েছে। ফলে মহানগর এলাকায় একজন বাসযাত্রীকে পাঁচ কিলোমিটার ভ্রমণের জন্য বাড়তি ২ টাকা ২৫ পয়সা গুনতে হবে। এ ছাড়া মহানগরে মিনিবাসের বর্তমান ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা। এটি বাড়িয়ে ২ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছে। এতে ভাড়া বাড়ে কিলোমিটারপ্রতি ৪৫ পয়সা। ফলে মহানগর এলাকায় চলাচলকারী মিনিবাসের ভাড়া পাঁচ কিলোমিটারে ২ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ল। যদিও সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে ২৩ শতাংশ। কিন্তু হিসাব করে দেখা যায় পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় ২৭ ভাগ।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং প্রতিবেশী দেশে পাচার ঠেকাতে দেশে ডিজেল-কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। গত বুধবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। নতুন দাম ভোক্তাপর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়।
ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিনই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে বাস, ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের মালিকেরা। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিআরটিএকে চিঠি দেয় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
এর আগে সবশেষ ২০১৫ সালে নগর পরিবহনে বাসের ভাড়া প্রতি কিলেমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের জন্য ১ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর ২০১৬ সালে দূরপাল্লায় ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ টাকা ৪২ পয়সা।
দেড়গুণ ভাড়া বাড়ল লঞ্চের : বাসের পর লঞ্চ ভাড়াও বেড়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে লঞ্চের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে লঞ্চ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। গতকাল মতিঝিলের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যালয়ে সরকারের সাথে লঞ্চ মালিকদের বৈঠকে এই ভাড়া বাড়ানো ও ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে লঞ্চভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ১ টাকা ৭০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৩০ পয়সা ও ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। বৈঠকে অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও লঞ্চ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে লঞ্চ মালিকরা আগের কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সার সাথে ০.৪৯ টাকা বৃদ্ধি করে ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। কিলোমিটারপ্রতি যাত্রী ভাড়া ০.৪৯ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন মালিকরা। এতে আগের কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সার সাথে ওই টাকা যোগ করে ২ টাকা ১৯ পয়সা করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব তাদের।
বৈঠকের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ২০১৩ সালে যাত্রীবাহী নৌযানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা, ১০০ কিলোমিটার অধিক দূরত্বের জন্য জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪০ পয়সা এবং জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ১৮ টাকা নির্ধারিত হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের পর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় যাত্রীদের ভাড়া আর বৃদ্ধি করা হয়নি।
সরকার গত ৪ নভেম্বর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নৌযানের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান মালিক সমিতি বা সংস্থার পক্ষ থেকে ৬ নভেম্বর রাতের মধ্যে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নৌযান পরিচালনা বন্ধ করে দেয়ার আলটিমেটাম দেয়া হয়। ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শনিবার সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। এ দিন সকাল থেকে ধর্মঘটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও মালিকরা টার্মিনাল থেকে লঞ্চ অন্যত্র সরিয়ে নেন।
তীব্র ভোগান্তিতে জনগণ : এ দিকে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ। পরিবহন সঙ্কটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি। সব থেকে বেশি ভোগান্তি দেখা যায় গতকাল রোববার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীর অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। বাসের বিকল্প হিসেবে হেটে, রিকশা, ভ্যান, রাইড শেয়ারিং, সিএনজি অটোরিকশা করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। এতে করে গুনতে হয়েছে কয়েক গুণ বাড়তি অর্থ।
গতকাল সকালে মিরপুর কাজীপাড়ায় পরিবহনের জন্য অপেক্ষায় থাকা আতিক আহমেদ বলেন, দেশে কোনো একটা ইস্যু এলেই তার দায় গিয়ে পৌঁছায় জনগণের ওপর। আমরা বোকা জনগণ বাধ্য হয়েই সব কিছু মেনে নেই। তিনি বলেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশই এমন একটি দেশ যেখানে পরিবহন ভাড়া সব থেকে বেশি। তারপরও কারণে-অকারণে পরিবহন কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাড়াচ্ছে। আর সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোও তাদের কাছে জিম্মি। সরকার জনগণের কথা না ভেবে ওই পরিবহন মালিকদের সাথে তালমিলিয়ে জনগণের পকেট কাটছে। তিনি আরো বলেন, মহানগরে চলাচলরত বাসের বেশির ভাগই সিএনজিচালিত।
তাদের জ্বালানি খরচ বাড়েনি। অথচ সব পরিবহনই বাড়তি ভাড়া আদায় করবে। কোন যাত্রী খোঁজ নিতে যাবে যে এই বাস তেলে চলছে নাকি সিএনজিতে। সন্ধ্যায় মতিউর রহমান নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে ২৩ ভাগ, সেখানে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো ২৭ ভাগ। এটা কিভাবে হলো। তিনি ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন করেন, সরকার কি জনগণের? নাকি গুটিকয়েক পরিবহন মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার আশঙ্কা, সরকার ২৭ ভাগ ভাড়া বাড়ালেও দেখা যাবে বাসের সুপারভাইজার আরো বেশি ভাড়া আদায় করবে।
পণ্যবাহী বাহনের ধর্মঘট অব্যাহতের ঘোষণা : ডিজেলের দাম কমানোর দাবিতে চলমান ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি প্রাইম মুভার মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। রোববার দুপুরে বৈঠক শেষে সংগঠনের সদস্যসচিব তাজুল ইসলাম জানান, ‘আমরা বৈঠক করে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তেলের দাম না কমা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।’ ধর্মঘটের তৃতীয় দিন রোববার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের তেজগাঁও কার্যালয়ে নেতারা এ বিষয়ে বৈঠক বসেন। বৈঠক প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ভাড়া তাদের কোনো বিষয় নয়। তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদেই তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তারপুর সেতুর বর্ধিত টোল প্রত্যাহার, সিটি করপোরেশন-পৌরসভার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়েছে বৈঠকে।
চট্টগ্রামে দুর্ভোগ কমানোর নামে দ্বিগুণ ভাড়া
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দু’দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল ধর্মঘটীদের একাংশ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম নগরে চালিয়েছেন গণপরিবহন। পরিবহন শ্রমিকদের একটি পক্ষ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছেন এমন মন্তব্য করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বাস মালিক সমিতি (আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত) ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। কিন্তু গতকাল ‘যাত্রীদের দুর্ভোগ বোঝা’ পরিবহন নেতারা রাস্তায় বাস নামিয়ে পকেট কেটেছেন সাধারণ মানুষের। যাত্রীদের অভিযোগ, গাড়িতে দ্বিগুণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিকদের দাবি- দুর্ভোগ কমাতেই গণপরিবহন চালু রেখেছেন তারা। তবে গতকাল নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এর উল্টো চিত্র। এই সমিতির সোনার বাংলা-মেট্রো প্রভাতী সিটি বাস চললেও নেয়া হচ্ছে উঠা-নামা ‘দশ’ টাকা করে। এ নিয়ে শ্রমিক-যাত্রীদের মাঝে চলছে তর্কাতর্কি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টারধারী মেট্রো প্রভাতী-সোনার বাংলা বাস চলছে। তবে নেয়া হচ্ছে উঠা-নামা ১০ টাকা করে। তার ওপর গাদাগাদি। কোনো কথাই পরিবহন শ্রমিকদের সাথে বলা যাচ্ছে না। তারা তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুকে পুঁজি করে সাধারণ যাত্রীদের ওপর ভাড়া নিয়ে জুলুম করছে।
এ দিকে তৃতীয় দিনের মতো চলা পরিবহন ধর্মঘটে সোনার বাংলা-মেট্রো প্রভাতী সিটি বাস ছাড়া বেশির ভাগ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলছে না। পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে সিএনজির দাম না বাড়লেও সিএনজিচালিত টেম্পোগুলোও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
রাজশাহীতে সীমাহীন ভোগান্তি
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে রাজশাহীতে যাত্রীসাধারণ সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। গতকাল অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়। কিন্তু ছুটিতে রাজশাহী গিয়ে অনেকেই আটকা পড়েছেন। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও টিকিট নেই। টানা তিন দিন রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ। এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রাক-কভার্ডভ্যানও চলেনি।
সব মিলিয়ে রাজশাহীর সাথে সড়ক পথে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ দিকে মহানগরী, জেলা ও উপজেলার সড়কে বেড়েছে জ্বালানিবিহীন যানবাহনের চলাচল। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দখলে চলে গেছে পুরো রাজশাহী। বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছতে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকেন চালকেরা। নিরুপায় হয়ে যাত্রীরা বেশি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে পথে পথে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
