নিজস্ব প্রতিবেদক।।
স্থায়ীভাবে বাতিল হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। যদিও করোনার কারণে চলতি বছরের এই দু’টি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে তবে আগামী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ পরীক্ষা দু’টি স্থায়ীভাবেই আর থাকছে না। স্কুল-ভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট বা ক্লাসের মূল্যায়নের মাধ্যমেই পঞ্চম শ্রেণী এবং অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ এসএসসির আগে আগে স্কুল পর্যায়ে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল পর্যায়ে অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণীতে এবারের পাবলিক পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরে অষ্টম শ্রেণীতে জেএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে না।
আর এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও এবার নেয়া হবে না। তবে এ দু’টি পরীক্ষার পরিবর্তে স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট এবং ক্লাসের মূল্যায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা উপরের ক্লাসে প্রমোশন পাবে। পরীক্ষা না নেয়া হলেও অটোপাস দেয়া হবে না।
এ দিকে করোনার কারণে চলতি বছরের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হলেও প্রশ্ন উঠেছে কোমনমতি শিক্ষার্থীদের জন্য আদৌ এই পরীক্ষা দু’টির প্রয়োজন ছিল কি না ?
কেননা ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই একাধিকবার তার বক্তব্যে বলেছেন, অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ এবং জিপিএ ৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জিপিএ ৫ পাওয়ার প্রতিযোগতার কারণে শিক্ষার্থীরা মৌলিকভাবে শিখন ও পঠনে পিছিয়ে পড়ছে। প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষা কেন্দ্রিক পড়াশোনার নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
২০১১ সাল থেকে হঠাৎ করেই এই দু’টি পাবলিক পরীক্ষা (পিইসি ও জেএসসি) চালু করা হয়। অথচ ২০১০ সালের বহুল আলোচিত জাতীয় শিক্ষানীতিতে এ রকম কোনো সুপারিশ ছিল না। ২০১১ সালে যখন জেএসসি পরীক্ষা চালু হয়, তখন যুক্তি দেখানো হয়েছিল, সরকারি চাকরিতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে নিয়োগে ন্যূনতম যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী।
কিন্তু অনেক প্রার্থী অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত না পড়েই স্কুল থেকে সনদ নিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করে থাকেন। মূলত তখন থেকেই চালু করা হয় জেএসসি পরীক্ষা। কিন্তু পরে অবশ্য ২০১৬ সালে এই পদে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা।
পিইসি জেএসসি এবং স্কুল পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষার বিষয়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন নয়া দিগন্তকে জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হতে হবে আনন্দের মাধ্যমে। এখানে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ বা পরীক্ষা নিয়ে তাদের মেধার মূল্যায়ন করা যাবে না।
শিক্ষার সাথে আনন্দও থাকতে হবে। মন্দের ভালো যে, সরকার অনেক দেরিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থীদের শিখন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে মানবসম্পদ উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে নতুন উদ্যোগে পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র জানায়, শুধু পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তনই নয়, সরকার এখন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৩ সাল থেকেই শুরু হবে এই পরিবর্তন। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতেও বেশ কিছু বিষয়ে পবির্তন আনা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির এই নতুন রূপরেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতিও দিয়েছেন। সূত্রমতে পরিবর্তিত শিক্ষাক্রমে এসএসসি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না। এইচএসসিতে একটি বোর্ড পরীক্ষার পরিবর্তে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে অনুষ্ঠিত হবে পৃথক দু’টি পরীক্ষা। পরে এ দুই পরীক্ষার পয়েন্ট মিলিয়ে তৈরি হবে এইচএসসির গ্রেড পয়েন্ট। আর তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে না স্কুলের কোনো পরীক্ষা।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু হবে আগামী বছর। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকে প্রথম শ্রেণী আর মাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পাইলটিং শুরু হবে। আর নতুন এই শিক্ষাক্রমের প্রয়োগ শুরু হচ্ছে ২০২৩ সালে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
