এইমাত্র পাওয়া

রংপুরের পীরগাছার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে অনীহা

রংপুর ব্যুরো।।

টানা দেড় বছর পর প্রাণ ফিরেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। গত (১২ সেপ্টেম্বর) স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

যদিও উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মাঝেও। তবু সবচেয়ে খুশির সংবাদ হলো স্কুল-কলেজ খুলেছে। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে অনীহা।

এ বিষয়ে সচেতন অবিভাবকগণ মফস্বল স্কুলের সাস্থ্যবিধি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে, তবে চিন্তার চাপও বেড়ে গেছে। স্কুলের ভর্তি ফি সহ সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যে সকল বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ফি আদায় করছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা-মোজা শিক্ষা সামগ্রী কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অবিভাবকদের অভিযোগের সূত্র ধরে পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুল- মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। স্কুল কলেজ খোলা নিয়ে সরকার ১৯দফা নির্দেশনা ও ৩৯ টি গাইডলাইন বেধে দিয়েছেন।

এরপরও কতটা মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। তাপমাত্রা পরীক্ষা করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজনীয় সরন্জাম নেই। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা নেই।

কোথাও দেখা গেছে, শুধুমাত্র হাত ধোয়ার পানি ও সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও অন্যান্য বিধি নিষেধ মানা হচ্ছে না। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকসহ প্রত্যেকের শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তো দূরের কথা শিক্ষকরা পর্যন্ত মাস্ক ব্যাবহারে উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের তুলনায় আসন সংখ্যা সীমাবদ্ধতা দেখা গেলো প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে।

স্কুলের অবকাঠামো এবং এক কক্ষে বসে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস করানো প্রায় দুঃসাধ্য বিষয় বলে জানান প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে কোন কোন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্হ্যবিধির ত্বোয়াক্কা না করলে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক নির্দেশনা দিয়ে ছিলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মণি একাধিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে আবারো বন্ধ হয়ে যেতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মাদ্রাসার সুপার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের কে জানানো হলেও অনেক শিক্ষার্থী মাস্ক ব্যবহারের অনীহা করছে এটা সত্য। তবে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।

ওই প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষ জীবাণুমুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটাইজিং এর কোনো ব্যবস্থা নেই।

এমনকি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। উপজেলার ১নং স্বচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হোসাইন এ প্রতিবেদককে জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় অন্তত ৮০ ভাগ সফল তার প্রতিষ্ঠান। এমনটিই জানিয়েছেন বড় দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম (খোকন)।

তিনি জানান, এলজিপিএস-৩ এর বরাদ্দকৃত যা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরনের কথা শুনেছি, আমি কোনরকম বরাদ্দ পাইনি। তবুও নিজ খরচে শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নিয়েছি। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করেছি।

বড় দরগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন জানান, বিভিন্নভাবে জেনেছি, এলজিএসপি-৩ এর আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যান, স্টিল আলমারি এবং সংস্কারের জন্য বরাদ্দের কথা।

কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠান কোনো বরাদ্দ পায় নাই। আমি নিজ উদ্যোগে হাত ধোয়া, শ্রেণিকক্ষ জীবাণুমুক্তকরণ ও শিক্ষার্থীদের শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। অন্যদিকে কৈকুড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়া চলমান পরিস্থিতিতে দায়ী করেছেন, গ্রামঅঞ্চলের অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদাসীনতার।

তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার পরিছন্নতা, জীবাণুমুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন জানান, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধির অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার (DEO) রোকসানা ম্যাডামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি নিজেও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। এবং আমার উপজেলা শিক্ষা অফিসারগন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং করছে। কোনরকম অনিয়ম এবং সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের অবমাননা দেখলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.