এইমাত্র পাওয়া

পিইসিই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট- এর প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি

নিউজ ডেস্ক।।

আজ বুধবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র পিইসিই  পরীক্ষা  বাতিলের   দাবিতে প্রতিবাদী   অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সালমান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সঞ্জয় কান্ত দাস ও প্রচার – প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।

সহ-সভাপতি ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, “২০০৯ সালে পিইসিই পরীক্ষা চালু করার পর থেকেই আমাদের সংগঠন তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এ পরীক্ষা শিশুর আনন্দময় শৈশবকে কেড়ে নিচ্ছে। আনন্দের সাথে শেখার মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গাইড- কোচিং নির্ভর এ পরীক্ষা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকে তরান্বিত করছে। ভালো ফলাফলের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। যা শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি বাড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আমাদের সংগঠন পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মতামত তৈরি করে। সারাদেশে অবিভাবক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। আন্দোলনের চাপে সরকার ২০১৬ সালে পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে সরকার ঘোষণা দেয়, ২০২১ সাল থেকে পিইসি পরীক্ষা বাতিল হবে। কিন্তু আমরা সম্প্রতি দেখলাম, পূর্বের ঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরকার এ বছর পরীক্ষাটি নেয়ার ঘোষণা দিলো। এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এর ওপর পিইসি’র মতো একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং অবিলম্বে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবী জানাচ্ছি।”

সভাপতি মাসুদ রানা তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ দেড় বছর ধরে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ। এই দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার সব থেকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে। এবং ঝড়ে পড়ার হার এই স্তরে বেশি।

করোনা পরিস্থতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্থ। তাই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মুক্ত পড়াশোনা এবং পাঠ মূল্যায়ণ করা দরকার। যেন শিশুদের উপর মানসিক চাপ না পড়ে। কিন্তু আমরা দেখলাম সরকার এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েই পিইসি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

আমরা সরকারের এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক- অভিভাবক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.