অনলাইন ডেস্ক।।
পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ নামে পরিচিত। কুরসি শব্দের অর্থ চেয়ার বা আসন। আয়াতে ব্যবহৃত কুরসি শব্দ থেকে আয়াতটির নামকরণ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, কুরসি মানে আল্লাহর আরশ।
আয়াতুল কুরসির অর্থ :
‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিন্দ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসি’ আকাশ ও পৃথিবীময় পরিব্যাপ্ত; এদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি মহান, শ্রেষ্ঠ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৫)
পাঠের উপকার : হাদিসে আয়াতুল কুরসি পাঠের একাধিক উপকারের কথা এসেছে। যেমন
১. মৃত্যুর পর জান্নাত : আবু উমামা আল বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যুর ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৯৯২৮)
২. কোরআনের সবচেয়ে সম্মানিত আয়াত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে। কোরআনের চূড়া সুরা বাকারা। তাতে এমন একটি আয়াত আছে, যা কোরআনের অন্য আয়াতের ‘নেতা’। সেটা হলো আয়াতুল কুরসি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩১১৯)
৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা : আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন প্রহরী থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার কাছে আসবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩১১)
কখন পাঠ করবে :
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে ব্যক্তি শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। তাই সেসব সময়ে তা পাঠ করবে যখন শয়তান মানবসমাজে পরিভ্রমণ করে। যেমন—সকাল ও সন্ধ্যা। আল্লামা ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, আমি প্রত্যেক নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করি। (তারবিয়্যাতুন নুফুস, পৃষ্ঠা ২৩৫)
তবে কেউ যদি প্রত্যেক নামাজের পর তা পাঠ করতে না পারে, তাহলে অন্তত ফজরের নামাজের পর এবং মাগরিবের নামাজের পর পাঠ করবে। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পুরো রাত ও পুরো দিন পাঠকারীকে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ রাখবেন। আল্লাহ সবাইকে তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দান করুন। আমিন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
