বিন-ই-আমিন, নলছিটি, ঝালকাঠি।।
ঝালকাঠির নলছিটির সুগন্ধা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ ভাঙন এখন নলছিটি থেকে বরিশাল যাওয়ার প্রধান সড়কের( খোলাখালী অংশ) খুব কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ভাঙনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়ি।কাজী বাড়ি মসজিদ,কুড়িপট্রি,ভুট্রোবাজার ও এশিয়ার তৎকালীন বৃহত্তম মোহাম্মদীয়া ওয়েল এন্ড রাইস মিল স্থাপনা। ভাঙন কবলের সম্মুখীন পুরানবাজারের শত শত ঘর-স্থাপনা।
ঝালকাঠী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে প্রায় অর্ধ শতাব্দী যাবৎ ভাঙছে এই এলাকা। মুল শহরের অংশও নদীর গর্ভে। ভেঙে গেছে মোহাম্মদীয়া রাইস মিলের একাংশ সহ শহরের মৌজার প্রায় ৭০ একর জমি যার বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকার উপরে। স্বাধীনতার পর কোন সরকারই নদী ভাঙন রোধে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জাতীয় পার্টির আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভূট্রোর চেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরে অদৃশ্য কারনে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আসলে নলছিটি বাসীর প্রাণের দাবী পুরণে ২৫ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। ঠিকাদার নিম্নমানের বাঁশ, ইট দিয়ে তৈরী পারকোপাইন যা তেমন সুফল বয়ে আনেনি বলে অভিমত সচেতন মহলের।
প্রাচীন এই পৌরসভার ইতিহাস থেকে জানা যায়,বৃটিশ আমলে পাক-ভারতে ৩টি পৌরসভার মধ্যে একটি নলছিটি। যা ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। নদী ভাঙনের সাথে অন্যন্য কারনে ১৯৬২ সালে সরকার এটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। নদী ভাঙনের সাথে আয়তন ও জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় তৎকালীন মিউনিসিপালিটি আইনে যোগ্যতা হারায় নলছিটি পৌরসভা।
জাতীয় পার্টির আমলে ১৯৮৫ সালে সাংসদ জুলফিকার আলী ভূট্রোর চেষ্টায় পুনরুজ্জীবিত হয় বর্তমানের এই পৌরসভাটি। কিন্তু নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে পৌরভবনটিও কোন এক সময় বিলীন হয়ে যাবে। একদিকে রাস্তার উন্নয়ন কাজ,অন্য দিকে নদী ভাঙন। তাই ঝালকাঠির নলছিটির সুগন্ধা নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রোববার (২২ আগস্ট) সকাল ১০ টায় পৌর এলাকার মল্লিকপুর-খোঁজখালী নলছিটি টু দপদপিয়া সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে অংশ নেন সুগন্ধা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকার কয়েক শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের দাবি দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙনে নলছিটির বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হতে চললেও এটি রোধে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের বাড়ি-ঘর, ভিটে-মাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এমনকি বরিশাল বিভাগ থেকে নলছিটি উপজেলার প্রবেশের একটি মাত্র সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
মানববন্ধন শেষে নদী ভাঙন রোধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক সফল খাদ্য ও শিল্প মন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি, ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) রুম্পা শিকদারের মাধ্যমে স্মারক লিপি প্রদান করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বালী তাইফুর রহমান তূর্য, এফ এইচ রিভান,মো.মাহবুবুর রহমান, মো. শাহ জালাল, মো.আনিসুর রহমান, ডাঃ সালাম, ডাঃ মাঈনুল ইসলাম মিলন, মো. কামাল হোসেন,মো.দ্বীন ইসলাম প্রমুখ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
