এইমাত্র পাওয়া

লালমনিরহাটে ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এবার পুলিশের অভিযান

মোস্তাফিজুর রহমান(মোস্তফা) লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ লালমনিরহাটে ইদানিং স্কুল ফাঁকি দেয়া শিক্ষার্থীদের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এসব শিক্ষার্থীরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে এবং পরিবেশ রয়েছে এমন রেস্তোরা ও ফাস্টফুডের দোকানে চুটিয়ে আড্ডা দেয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিত্বে পুলিশ এসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিঘ্রই অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। জানাগেছে পরনে স্কুল ড্রেস ও পিঠে স্কুল ব্যাগ ঝুলানো আছে এমন আড্ডাবাজ শিক্ষার্থীদের কোন ভাবেই পুলিশের হাত থেকে পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ৮ম , নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়–য়া এক শ্রেণীর উঠতি বয়সি শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে স্কুল ড্রেস পরে ও কাঁধে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে বের হয়। কিন্তু পরে তারা আর স্কুলে যায় না। স্কুল ফাঁকি দিয়ে তারা যায় বিভিন্ন পার্কে ও সম্ভাব্য রেস্তোরাঁয়। এ সময় এই শিক্ষার্থীদের অনেকের সাথে থাকে গার্ল ফ্রেন্ড ও বয় ফ্রেন্ড। এসব শিক্ষার্থীরা প্রায় সারাদিন পার্কে ও রেস্তোরাঁয় আড্ডা দিয়ে এবং গার্ল ফ্রেন্ড ও বয় ফ্রেন্ড নিয়ে ডেটিনং শেষে বিকালে স্কুল ছুটির সময় তারা বাড়ি ফিরে। অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা এ কাজ করছে।

শুধু তাই নয় এসব শিক্ষার্থীরা কোচিং এ যাওয়ায় কথা বলেও অভিভাবকদের ফাঁকি দেয়। কোচিং করার নামে তারা রাত ৮-৯ টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেয়। এক শ্রেণীর অভিভাবক তাদের সন্তান কোথায় যায় বা কি করে, সে খোঁজ-খবরও না রাখায় এসব শিক্ষার্থীরা এক সময় বখাটেপনা হয়ে যায়। বখাটে হয়ে তারা মাদক সেবন, মারপিট, রাস্তাঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এক সময় পরিবারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায় এ সব শিক্ষার্থী। তখন অভিভাবকদের করার আর কিছুই থাকে না।

আরও জানা যায়, শহরের বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র বলে পরিচিত এলাকা গুলো হয়ে উঠেছে স্কুল পালানো শিক্ষার্থীদের বিচরণ ক্ষেত্র। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই স্কুল সময়ে উঠতি বয়সি ছাত্র-ছাত্রীদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। শহরের নাম করা স্কুল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে আড্ডা দিতে দেখা যায়। তাদের পড়নে থাকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ। এসব এলাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে সিগারেট ও গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়। ভ্রাম্যমাণ সিগারেটের দোকান এবং পার্কের পাশে বসতি রয়েছে এমন মাদক বিক্রেতারা পার্কে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে গাঁজা সরবরাহ করে বলে জানা গেছে। যেন তাদের বাধা দেওয়ার সহস কেউ রাখে না।

এ ছাড়াও তিস্তা সেতু ও ধরলা সেতুর পাড়,তিস্তা ব্যারেজ এবং শালবন আড্ডাবাজ শিক্ষার্থী ও বখাটেদের অন্যতম বিচরণ ক্ষেত্র। এসব স্থানে স্কুল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কলেজ শিক্ষার্থীরাও আড্ডা দেয়। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের সামনে বখাটে ও ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশেষ করে মোটর সাইকেল আরোহী বখাটেদের দাপট আরও বেড়েছে। তারা দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি পথচারী মেয়েদের শরীরে হাত দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

তাদের মোটর সাইকেল এলাকায় যানযটেরও সৃষ্টি করে। জানাগেছে শহর সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এমন কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র, রেস্তোরা ও ফাস্টফুডের দোকানে বসার বিশেষ ধরনের জায়গা থাকার সুবাধে অনেক স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে নির্বিঘে্ন ডেটিং করে। আবার কেউ কেউ অনৈতিক কার্যকলাপেও জড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তারা নিকটস্থ কিছু বাড়ী ব্যবহার করে। জানাগেছে বাড়ী গুলো এ অনৈতিক কাজেই ব্যবহার হয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে ব্যবসা করার স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠান বা বাড়ীওয়ালাদের পক্ষ থেকে তাদের উৎসাহ দেয়া হয়। তাই এসব অনৈতিক বিষয়ের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভুক্তিভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

এদিকে বখাটে ও আড্ডাবাজ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরুর কথা জানতে পেরে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে পুলিশকে সাধুবাদ জানানো হয়। এ বিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ এসএম রশিদুল হক বলেন স্কুল কলেজ ফাঁকি দেয়া আড্ডাবাজ শিক্ষার্থী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবো। শুধু শহর নয় গোটা জেলায় এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, নিজেদের সন্তানদের ব্যাপারে প্রত্যেক অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানরা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, স্কুল, কোচিং সময় মত যাচ্ছে কিনা তারও খোঁজ রাখতে হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading