মোঃ মোজাহিদুর রহমান।।
মোংলা উপজেলার পশ্চিম বাজিকর খন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবন ও ভবনের লোহার বেঞ্চ ও জানালা গ্রিল আসবাবপত্র মুল্যবান মালামাল বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নিয়ে ছাত্র/ছাত্রী অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভ ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছরের জড়াজীর্ণ একটি পুরানো ভবনে ক্লাশ নিতে হতো ৩ থেকে ৪শ ছাত্র/ছাত্রীদের। সরকারের কাছে দীঘদিন চিঠি চালা চালীর এক পর্যায় তিনতলা বিশিষ্ট একটি স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার নতুন ভবনের অনুমতি মেলে। ২০১৮ সালে প্রথম দিকে নতুন এ ভবনের কাজ শুরু হলে তার দেখভাল ও পরিচালনার ভার থাকে তৎকালীন স্কুল কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন’র কাছে। স্কুলের নতুন ভবন তৈরী শেষ হলে পুরাতন ভবন ও তার মালামাল এবং নতুন স্কুল ভবনেরও বেশ কিছু লোহার মুল্যবান মালামাল রেখে নতুন সভাপতির কাছে দায়িত্ব বুঝে দিয়ে চলে যান তিনি।
কিছু দিন যেতে না যেতেই নতুন সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার নিজস্ব লোক মৃধা তৈয়বুর রহমান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোল্লা শফিকুল ইসলামের লোকজন মিলে রাতের অন্ধ্যকারে ওই সকল মালামাল গোপনে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া নতুন ভবন তৈরীর সময় পুরাতন ভবনের তিনের দুই অংশ ভেঙ্গে ফেলা হলে সেই অংশের মালামালও বিক্রি করে দেয় সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক, কিন্ত এ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না করে নিজেরাই আত্নসাত করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাহফুজ মৃধা, মাহবুবু মৃধা, রোকন মৃধা, গিয়াস মৃধা ও রিপন হাওলাদারসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, সুন্দরবন ইউনিয়নে বাজিকরের খন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান হওয়ায় বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের মালামাল টেন্ডার বা বিক্রয়ের অনুমতি না নিয়েই ক্ষমতাবলে তা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কয়েক লক্ষ টাকা আতœসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করেছে, আমরাও স্বাক্ষ্য দিয়েছি, এখন কর্তৃপক্ষ কি ব্যাবস্থা গ্রহন করে তা দেখার বিষয়।
অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃধা আঃ ছালাম বলেন, আমরা এলাকাবাসী স্কুলের স্বার্থে মালামাল গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকেও বারংবার বলেছিলাম। এখন জানতে পারলাম কোন মালামালই স্কুলে নেই, সব উধাও হয়ে গেছে। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি কিন্ত দেশের শিক্ষিত চোরদের ভাল করতে পারিনি, তাই সরকারী সম্পত্তি আত্নসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছি। আমরা স্কুলের অভিভাবক হিসেবে চুরি করে স্কুলের মুল্যবান মালামাল বিক্রি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে বিচারের দাবী করছি।
পশ্চিম বাজিকর খন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, পুরাতন স্কুলে মালামাল লোহা, ইট, বেঞ্চ, জানালাসহ নতুন ভবনেরও কিছু লোহার মালামাল বিক্রি না করে নতুন সভাপতির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। টেন্ডার না দিলেও স্কুলের সার্থে স্থানীয় ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীদের অবগত করে তা বিক্রি করা উচিত ছিল। তবে এখানে ৫/৭ লক্ষ টাকার মালামাল রয়েছিল বলে জানায় সাবেক এ সভাপতি।
এ বিষয়ে কিছুটা সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক মালই চুরি হয়েছে, স্কুলের সার্থে কিছু মালামাল বিক্রি করা হয়েছে তাও বিদ্যালয়ের কাজের জন্য। টেন্ডার দেওয়া হয়নি কেন বললে তার কোন সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি।
মোংলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুমন্ত পোদ্দার বাগেরহাট বলেন, জেলা প্রশাসককে দেয়া একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহদয় আমাকে তদন্ত করার জন্য বলেন। সরেজমিন তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গতকাল প্রধান শিক্ষককে তিন কার্য দিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, স্কুলের মালামাল গোপনে বিক্রয়ের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা অভিভাবক। এক টাকার সরকারি মালামাল হলেও তা টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করতে হবে। অভিযোগটি জেলা প্রশাসক মহদয়ের পক্ষ থেকে আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
