নিউজ ডেস্ক।।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৪০০ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এগুলোয় গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনার ওপরই বেশি জোর দেয়া হয়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, টিউশন ফি নিয়ে থাকছে আরো বিস্তারিত।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়: সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইহোয়া উইমেনস ইউনিভার্সিটি, ইয়নসে ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি।
বৃত্তি:
এখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই বৃত্তি দেওয়া হয়। তবে মাস্টার্স ও পিএইচডির তুলনায় ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য স্কলারশিপের পরিমাণ খুবই কম। যেমন: কেজিএসপি, গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ, প্রফেসর ফান্ডিং, বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ, স্যামসাং গ্লোবাল এমবিএ স্কলারশিপ, কোইকা কাইস্ট এমবিএ ইন সোশ্যাল ইকোনমি ইত্যাদি।
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য কোরিয়ান সরকার প্রদত্ত বৃত্তিটি হলো কেজিএসপি। এই বৃত্তি পাওয়ার জন্য একাডেমিক রেজাল্ট, আইইএলটিএস, কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সার্টিফিকেট, সহশিক্ষা কার্যক্রমে বেশ ভালো হতে হবে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে খুব অল্প কয়েকজনকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়।
কেজিএসপি বৃত্তির আওতায় থাকছে: আসা-যাওয়ার বিমানের টিকিট, নিষ্পত্তি ভাতা, থাকার খরচ, স্বাস্থ্য ভাতা, ল্যাংগুয়েজ কোর্স ফি, টিউশন ফি ও রিসার্চ সাপোর্ট। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
টিউশন ফি
দক্ষিণ কোরিয়ায় টিউশন ফি সাশ্রয়ী। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বেসরকারির ফি কিছুটা বেশি, বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিসিন নিয়ে পড়ার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে বছরে ৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। গড়ে তা ৯ লাখ টাকার মতো। সিউল বা বুসানের মতো বড় শহরগুলোয় টিউশন ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ একটু বেশি। তবে অন্য শহরগুলোয় খরচ কম।
সুযোগ-সুবিধা
কাজ করেই টিউশন ফিসহ থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করা যায়। জেজু আইল্যান্ডে প্রতিদিনই অনেক পর্যটক আসেন। কোরিয়ান ভাষা জানা থাকলে সেখানে রেস্তোরাঁয় কাজ পাওয়া খুবই সহজ। শিক্ষার্থীরা চাইলেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। তা ছাড়া, শিক্ষার্থীরা ছুটির সময় ফুলটাইম কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কোনো বিদেশি কোরিয়ান ভাষা জানলে কোরিয়ানরাও নিজে থেকেই সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদিক থেকে তারা বেশ আন্তরিক। অনেকের মনে বর্ণবাদের ভয় থাকলেও এখানে তেমন কিছুই নেই। মিশুক প্রকৃতির হলে ভিন্ন পরিবেশে থাকা কোনো সমস্যাই নয়।
প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি স্বল্প খরচে এসব হোস্টেলে থাকতে পারবেন।
ভর্তি-প্রক্রিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ায় সাধারণত ফল ও স্প্রিং এ দুটি সেমিস্টারে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যেসব শিক্ষার্থীরা যেতে পারেন
ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করার জন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে পারেন। তবে এখানে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তি বেশ কঠিন। এসএসসি-এইচএসসি বা ও-লেভেল, এ-লেভেলে খুব ভালো ফলের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাচেলর ডিগ্রির মেয়াদ তিন থেকে চার বছর, মাস্টার্স ডিগ্রির এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডির মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর হয়ে থাকে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
