এইমাত্র পাওয়া

ভর্তি বাণিজ্য: মতিঝিল আইডিয়ালের কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে ১১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার আসামি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমের আবেদনে সাড়া দিয়ে রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশের এ আদেশ দেন বলে দুদকের কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান।

আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো পদ না থাকলেও ‘অবৈধভাবে’ তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুদক জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বলেন, আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যান্য ব্যক্তির যোগসাজশে শিক্ষার্থী ভর্তির বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডে ২৬টি, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডে ২৯টি, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডে ১০টি, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডে ১০টি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডে তিনটিসহ ১৫টি ব্যাংকে মোট ৯৭টি একাউন্টে ছয় বছরে মোট ১১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ কর্মকর্তার নামে বনশ্রীর মসজিদ মার্কেটের সাথে বিশ্বাস লাইব্রেরী নামে তার একটি বইয়ের দোকান, আফতাবনগর ‘বি’ ব্লকের ৩৪ নং প্লটে বিশ্বাস বাজার নামে সুপারশপ, ভিশন-৭১ নামে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আফতাবনগর ও বনশ্রীতে তার পাঁচটি বাড়ি রয়েছে।এসব তার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ বলে জানান তিনি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধ ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের হোতা এই আতিকুর রহমান। তিনটি ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস (পোশাক) তৈরি, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি সবই তার নিয়ন্ত্রণে। এমনকি স্কুলের সামনে ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়েও তিনি আয় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানে যত ধরনের কেনাকাটা, উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ হয় তার সবই করেন আতিক।

দরপত্রেও অংশ নেয় নামে-বেনামে তারই প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলে বড় ধরনের লুটপাট। গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এর বেশিরভাগই হয়েছে আতিকের মাধ্যমে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.