নিউজ ডেস্ক।।
কিটো ডায়েটের জন্য আলোচিত ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে এবার ভুয়া ডিগ্রি দিয়ে ব্যবসা করার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। সংগঠনটির অভিযোগ, ডা. জাহাঙ্গীর প্রেসক্রিপশনে তার পরিচয়ে যে চার বিদেশি ডিগ্রির উল্লেখ করেছেন সেগুলো বিএমডিসি অনুমোদিত নয়। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিএমডিসি।
এদিকে ডায়েবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত ওষুধের বদলে পিঙ্ক সল্ট গ্রহণের পরামর্শদাতা চিকিৎসক ডা: জাহাঙ্গীর কবিরের প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখ করা ৪টি ডিগ্রি অনুমোদনহীন বলে জানা গেছে।
তবে এখন থেকে এমবিবিএস ছাড়া অনুমোদনহীন বাকি ডিগ্রিগুলো প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে আর ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে চিঠি হাতে পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানালেন আলোচিত সমালোচিত এ চিকিৎসক।
শনিবার (৭আগস্ট) বিকেলে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে এ ঘোষণা দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে যে চারটি ডিগ্রির কথা উল্লেখ করে আসছিলেন, সেগুলো অনুমোদনহীন ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে টিকা নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করার পর ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।
এরপরই আলোচনায় আসে তার অনুমোহীন ডিগ্রির প্রসঙ্গ। এসব ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়ে কারণ জানতে চায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল।
ওই দুটি চিঠি পাওয়ার পর ডা. জাহাঙ্গীর তার ফেসবুক পেজে এই ভিডিও আপলোড দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এফডিএসআরের কাছ থেকে আমার কাছে একটি চিঠি আসছে। এই চিঠি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেয়ার কথা ছিল। তবে আমি জানি না কীভাবে এই চিঠি মিডিয়ায় চলে আসছে। এটার কারণে আমার ব্যক্তিগত লাইফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ৪ আগস্ট আমি এই চিঠি হাতে পেয়েছি। এটা চিঠির জবাব আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের জানাবো।’
বিএমডিসির চিঠি হাতে পাওয়ার খবর জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মৌলিক ডিগ্রি হচ্ছে এমবিবিএস। যেটা আমি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেছি। এ ছাড়া চারটি ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ডিগ্রি ব্যবহার করছি। এটা মূলত ডিগ্রি নয়। ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত), তবে এই ডিগ্রিগুলো আমি সত্যি সত্যিই করেছি।’
প্রমাণ হিসেবে ডা. জাহাঙ্গীর ফেসবুক ভিভিওতে তার সব একাডেমিক সদন এক এক করে দেখান। তবে এমবিসিএস ছাড়া বাকিগুলোর স্বীকৃতি দেয়নি বিএমডিসি।
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে এগুলো ছিল ট্রেইনিং। আপনাদের কাছে আমার একটাই আবেদন: আমার ডিগ্রিগুলো যদি সঠিক না হতো, আমি কীভাবে ২০ বছর ধরে প্র্যাকটিস করে আসলাম? তবে যেহেতু বিএমডিসি থেকে চিঠি দিয়েছ, এই চিঠি পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আমার সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশনে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া আর কিছুই লিখব না।
তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে অপচিকিৎসার অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।
উল্লেখ্য, ফেসবুক ও ইউটিউবে লাখ লাখ অনুসারী আছে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের। লাইফস্টাইল ও ফিটনেসের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন। বিভিন্ন বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীরের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন অনেকে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
