নিউজ ডেস্ক।।
চলমান করোনা মহামারিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে ২২ লাখ মানুষ। তা ছাড়া মহামারির কারণে দেশের জিপিডি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৩৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে ৩৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এ সময় দারিদ্র্যের হার ৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
শনিবার এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের কারণে আমাদের রফতানি প্রায় ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে আমাদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর পাশাপাশি করের হার বৃদ্ধি করতে হলে, দেশের শুল্ক ও ভ্যাট আহরণ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অটোমেশন খুবই জরুরি। দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সূচকে উন্নয়ন, স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নতি ও বাণিজ্যবিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পমন্ত্রী এমএ মান্নান। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়েক সেন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রধান ড. নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ এমএস সিদ্দিকী, রাশেদ মাকসুদ খান, ডিসিসিআইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনকেএ মবিন ও সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে। অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতির পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কর-শুল্কসহ অন্যান্য নীতিতে সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণে দেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার। জনগণকে মহামারি থেকে সুরক্ষা দিতে টিকাদান কার্যক্রম গ্রামীণ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. বিনায়েক সেন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে আপডেটেড তথ্যের অপর্যাপ্ততার কারণে নীতিমালা প্রণয়নে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মহামারি মোকাবিলায় লকডাউনের ফলে সমাজের অনেক মানুষ নতুন দারিদ্র্যসীমায় চলে আসতে পারে, তা মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে প্রণোদনা প্যাকেজ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে কী করে পৌঁছানো যায় তার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিনায়েক সেন বলেন, কৃষি খাত, ম্যানুফেকচারিং এবং সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে উন্নতি করেছে। তবে এলডিসি পরবর্তী সময়ের জন্য দেশের কর ও শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ পর্যালোচনা প্রভৃতি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ আমাদের রফতানির জন্য একটি বড় হুমকি, তবে অতীতে অন্য দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, রফতানির বহুমুখীকরণ এবং এফটিএ ও অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করেছে, তবে এ জন্য সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন মোকাবিলায় আগামী ২ থেকে ৪ বছর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ জন্য নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের আরও অধিক হারে ঋণ সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে নজর দিতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
