এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকদের বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি

উচ্চশিক্ষার বিষয়ে দেশবাসীর ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। মৌলিক গবেষণায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যাও সন্তোষজনক নয়। এসব কারণে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় দেশের উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছেন। বস্তুত তারা রয়েছেন কয়েক ধরনের ছুটিতে। এর পাশাপাশি আরও কয়েক হাজার শিক্ষক বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি তাদের কেউ কেউ একাধিক খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই শিক্ষকরা মৌলিক গবেষণা নিয়ে চিন্তা করার সময় পান কম।

সরকারের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন মানসিকতায় সার্বিকভাবে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞান-সৃজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশেষভাবে যুক্ত থাকার কথা।

অথচ একাধিক চাকরির কারণে জ্ঞান-সৃজন দূরের কথা, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে মূল কর্মস্থলে ঠিকমতো সময় না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। দেশে বর্তমানে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সে তুলনায় সিনিয়র শিক্ষকের সংকট রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের সেবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব শিক্ষকের মূল দায়িত্ব পালনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া দরকার।

জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর বা অন্য কোনো খণ্ডকালীন চাকরি ও গবেষণার সুযোগ রেখেছে প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ জন্য নিজ প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি আয়ের একটি অংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হয়। তথ্য গোপন করে কোনো শিক্ষক যাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরি বা গবেষণা করতে না পারেন, সেটা নিশ্চিত করা দরকার। তা না হলে একজন শিক্ষক নিয়ম না মেনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরি করতে পারেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বাইরে বেশ কটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয়ে থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই।

প্রশ্ন হল, যেসব শিক্ষক রাজধানীর বাইরের এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেন, তারা কি মূল কর্মস্থলের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন? কাজেই কোনো শিক্ষক মূল দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষাকে সবসময় উৎসাহিত করা হয়। এ জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দও দিয়ে আসছে। কোনো শিক্ষক যাতে এসব সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারেন তা নিশ্চিত করা দরকার। স্

বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিজেদের উদ্যোগেই নৈতিকতা ও বিধিবিধানের সমন্বয় করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কাছে সর্বোচ্চ নৈতিকতা আশা করে সবাই। তারা ঢালাওভাবে সুযোগের অপব্যবহার করবেন না, এটাই কাম্য। শিক্ষকদের আচরণ ও পেশাদারি কর্মকাণ্ডে অনুকরণীয় নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটুক।সুত্র যুগান্তর


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.