এইমাত্র পাওয়া

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে আলোচনায় ৮ নাম

নিউজ ডেস্ক।।

কে হচ্ছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক- দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে এ প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী মারা যাওয়ার পর থেকেই এ প্রশ্নটিই বারবার আসছে।

এরই মধ্যেই বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে আলোচনা উঠে এসেছে আটজন বিশিষ্টজনের নাম।
কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ মে মারা যান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান।

মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে বাংলা একাডেমি আইনের ২৬ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক এরূপ কোনো ফেলো অথবা প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বা গবেষকদের মধ্য থেকে সরকার মহাপরিচালক নিয়োগ করবে এবং তার চাকরির শর্তাবলী সরকার স্থিরীকৃত করবে।

২৬ এর ৫ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, মহাপরিচালকের পদ শূন্য হলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে মহাপরিচালক তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সচিব অস্থায়ীভাবে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এএইচএম লোকমান বাংলানিউজকে বলেন, এটি আসলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। কারণ, মহাপরিচালক কে হবেন, সেটি মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করে। আমরা একাডেমি থেকে কোনো নামও প্রস্তাব করি না।

এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাংলানিউজকে বলেন, সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা এখনও হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তার মতো একজন দক্ষ প্রশাসক বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমরা আলোচনা করছি। কিন্তু কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা তিনজনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠাবো। তিনি তাদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেবেন। আমাদের প্রস্তাবিত নামের বাইরেও তিনি অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন।

যাদের নাম রয়েছে আলোচনায়
বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে বিভিন্ন সূত্র থেকে আটজনের নাম শোনা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে বাংলা একাডেমির একজন সাবেক মহাপরিচালক, দু’জন সাবেক পরিচালকের নামও শোনা যাচ্ছে।

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে আলোচনার শীর্ষে আছেন কথ্যসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম নারী পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি মহাপরিচালক হলে বাংলা একাডেমির ইতিহাসের দ্বিতীয় নারী মহাপরিচালক হবেন।

বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদাও রয়েছেন আলোচনায়। তিনি এর আগে নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের নামও শোনা যাচ্ছে আলোচনায়। তিনি ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের ১১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে চার বছরের জন্য রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযোগ দেয়। আগামী ১০ জুন তার মেয়াদ শেষ হবে। এর পর মেয়াদ না বাড়লে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হতে পারবেন।

আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সুপারনিউমারি অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হতে তার কোনো আইনি বাধা নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ইংরেজি অনুবাদক ফকরুল আলম, লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, বেগম আকতার কামাল ও সৌমিত্র শেখরের নামও শোনা যাচ্ছে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে।

এর আগে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়েছেন অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা, অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক মাহমুদ শাহ কোরেশী, অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (বর্তমানে বাংলা একাডেমির সভাপতি), অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, শামসুজ্জামান খান এবং হাবীবুল্লাহ সিরাজী।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.