এইমাত্র পাওয়া

২৯ বৎসরের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকবৃন্দের একটি স্বাভাবিক মৃত্যু প্রত্যাশা

‘প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও নাকি একদিন মরে যেতে হয়,…।‘মৃত্যু অনিবার্য এক বিশ্ময়ের নাম!প্রতিটি জীবনের সঙ্গে বহমান প্রেম-ভালোবাসা ও মৃত্যু এ যেন চিরন্তন এক চন্দ।এ ছন্দের বাইরে কোন সৃষ্টির উদ্ভব সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অকল্পনীয়! কিন্তু এমন কিছু মৃত্যু আছে যা শুধু অব্যাখ্যানই নয়,যা স্বয়ং স্রষ্টাকেও সময়ে-সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

কেননা আমরা জন্মমাত্রই জানি, স্রষ্টা নাকি কোন পরিশ্রমকারীকে সম্পূর্ণ নিরাশ করেন না;একদিন- না -একদিন মানুষ তাঁর পরিশ্রমের সুফল নাকি পানই!এ চিরন্তন বিশ্বাস এখন আর কতটা মেনে নিতে পারছি আমরা?

আমরা, মানে-বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ৫০বৎসরেও আমরা যারা এখনো মধ্যযুগীয় শ্রম দাস সম অভিশপ্ত নন এমপিও নামক শিক্ষাকতা পেশায় নিয়োজিত আছি।পৃথিবীতে এমন বিরল প্রজাতির আর কোন মানুষ আছে বলে মনে হয় না;যাদের জন্ম আছে ঠিকই কিন্তু কোন প্রেম-ভালোবাসা এমনকি মৃত্যুও নেই!অবাক হলেন?হ্যাঁ,নক্ষত্রেরও মৃত্যু থাকতে হয়,কেননা সেও এক-একটি সৃষ্টি -কিন্তু আমরা?

আমরা হচ্ছি এই সমাজ ও সভ্যতার চূড়ান্ত অনাসৃষ্টি। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে মিশে থাকে অনেক আবেগ-ভালোবাসা-সংখ্যাহীন অশ্রুসিক্ততা, অথচ আমাদের এক-একটি অকাল মৃত্যুর সাথেও মিশে থাকে একটি পরিবার-একটি সমাজ ও একটি রাষ্ট্রের জঞ্জাল বিদায়ের নিভৃত সুখানুভব! – এটি অস্বীকার করার কোন নেই,দেশ এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই।

সোনার বাংলার সপ্নদ্রষ্টার কন্যার হাতে এখন পৃথিবী তাকিয়ে দেখছে নতুন এক বাংলাদেশকে।কি হচ্ছে না?বিভিন্ন বিশ্ব পরাশক্তির চক্রান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বাধীনতার ৪৬বৎসর পর এ পবিত্র ভূমিতেই ৭১’র মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার সম্ভব হয়েছে, সম্ভব হয়েছে এক সময়ে অবিশ্বাস্য মনে হওয়া পদ্মা সেতুর নান্দনিক স্থাপত্য শৈলীর বাস্তবরুপ প্রস্ফুটিত করা, সম্ভব হয়েছে ভীনদেশী লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা মায়ের চোখে নিরাপত্তার এক-একটি সূর্য আঁকা! কিন্তু দীর্ঘ ৪৮বৎসরেও শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন কিছু অসংলগ্নতা অাছে যা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।একই সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম পড়িয়ে কেউ সরকারি, কেউ বেসরকারি, কেউ mpo,কেউ নন এমপিও, কেউ সায়ত্তশাসিত ইত্যাদি।

এই বিভিন্ন মাধ্যমের শিক্ষকবৃন্দের একটি প্রজাতির নাম হচ্ছে নন এমপিও শিক্ষক। উল্লেখ্য যে এই নন এমপিও শিক্ষকবৃন্দেরও আবার কিছু বিভাগ-উপবিভাগ আছে।যেমন-নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের নন এমপিও শিক্ষক ও এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নন এমপিও শিক্ষক। এই ২শ্রেণির শিক্ষকই আধুনিক বাংলাদেশে বিনা বেতনে বা যৎসামান্য প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে যুগের- পর -যুগ শিক্ষাদান করে চলছে। অতি সম্প্রতি অবশ্য অনেক অান্দোলন সংগ্রামের পর বর্তমান সরকার প্রায় ২৭০০শিক্ষা প্রতিষ্ঠান mpoআওতায় নিয়েছেন।

-কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ১৯৯৩সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় বেসরঃএমপিও ভুক্ত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দিলেও দীর্ঘ ২৯বৎসরে শুধুমাত্র জনবলে না অন্তর্ভুক্তির দোহাই দিয়ে এ স্তরের শিক্ষকবৃন্দকে mpoবঞ্চিত রাখা হয়েছে।

একই কলেজের অন্য সকল শিক্ষকরা একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে যদি mpoপেতে পারে, তবে আমরা একই কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকবৃন্দ কোন যুক্তিতে mpoবঞ্চিততা মেনে নিব?শুধু তাই নয়,যে জনবলে না অন্তর্ভুক্তির দোহায় দিয়ে ২৯বৎসর এ স্তরের শিক্ষকবৃন্দকে mpoবঞ্চিত রাখা হয়েছে, সেই একইভাবে জনবলে না অন্তর্ভুক্ত থেকেও মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ক্ষমতা বলে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডিগ্রি ৩য় শিক্ষকবৃন্দকে mpoভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে,সরকার /মন্ত্রনালয় নৈতিক দৃষ্টিতে দেখলেই জনবল ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ক্ষমতা বলে এই শিক্ষকবৃন্দের ২৯বৎসরের নন এমপিও অভিশপ্ততা থেকে মুক্তি দিতে পারে। -না,এই অমানবিক মধ্যযুগীয় শ্রম দাস সম নির্মমতা আর এভাবে চলতে পারে না!আমরাও চাই আমাদের একটি স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা।আমরাও প্রত্যাশা করি,পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে আমাদের মৃত্যুটাও হোক এক-একটি নক্ষত্রের মতনই চিরন্তন আবেগ-ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ততায়!

লেখক – চিরঞ্জীব(এম এ আকাশ), সেল সদস্য(তথ্য),বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.