এইমাত্র পাওয়া

এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদোন্নতির ভাবনা

।। মোঃ মঈনুদ্দিন চৌধুরী।।
সম্প্রতি স্কুল ও কলেজের জন্য এমপিও নীতিমালা-২০২১ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের জন্য ১০০ নম্বরের বিভিন্ন মানদন্ড বা সূচকের ভিত্তিতে ৫০% পদোন্নতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উক্ত সূচকসমূহের মধ্যে এমফিল/ পিএইচডির জন্য ৫ এবং জার্নালে প্রবন্ধের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক হলেও ইন্টারমিডিয়েট কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদ কেড়ে নিয়ে তাদের সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে নিচে নামিয়ে দেয়ায় তাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।।

যদিও তাদের বেতনস্কেল সহকারী অধ্যাপকদের সমান রাখা হয়েছে কিন্তু তাদের পদবি কেড়ে নেয়ায় তারা মনস্তাত্ত্বিক ভাবে অপমানিত বোধ করছেন (যেহেতু সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে এই নিয়ম নেই)। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন যাবত সহকারী অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত থাকা ডিগ্রি কলেজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও এমফিল/ পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকগন এমপিও নীতিমালায় জাতীয় শিক্ষা নীতির কৌশল মোতাবেক সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকায় খুব ই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এমপিও নীতিমালা-২০১০ এ এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৮ এর নীতিমালায় তা বাতিল করা হয়। এর পর সরকারের উচ্চ স্তরের ব্যক্তিবর্গ ওবিভিন্ন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উক্ত পদ আবার ফিরিয়ে আনার কথা বললেও ২০২১ এর নীতিমালায় তা আর পুনরায় সন্নিবেশিত করা হয়নি। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষকেরা মনে করেছেন যে, অর্থের অভাব থাকায় সম্ভবত অর্থ মন্ত্রনালয় সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে অনুমোদন দিতে পারছেননা।

একথা জেনে রাখা ভালযে, শিক্ষকেরা সব সময় শুধুমাত্র অর্থের জন্যই শিক্ষকতা করেননা, তারা সম্মানের জন্যও শিক্ষকতা করে থাকেন। কেননা শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। তবে জীবনে বেঁচে থাকতে গেলে কাঙ্খিত মাত্রায় অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা ঐ পরিমান অর্থ না থাকলে সমাজে কেউ সম্মান প্রদান করেনা। তাই জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক সম্প্রদায়কে টাকা না দিতে পারলেও সমস্যা নেই। অন্যভাবেও সম্মান দেয়া যায়। যেমন- ডিগ্রি কলেজে সরকারিভাবে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করে সরকার কর্তৃক অর্থ নাদিয়ে সংস্লিষ্ট কলেজগুলোর উপর উক্ত বাড়তি অর্থ প্রদানের দায়িত্ব অর্পন করা যায়। অর্থাৎ সরকার এক্ষেত্রে শুষ্ক পদোন্নতি বা Dry Promotion দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রেও অনুপাত প্রথার পরিবর্তে প্রভাষক পদের মত বিভিন্ন মানদন্ড বা সূচক অনুসরন করা যায়। এর ফলে একদিকে যেমন জাতীয় শিক্ষা নীতির কৌশল আংশিক বাস্তবায়ন করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে অন্যদিকে তেমনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধানের সাথে সাংঘর্ষিকতা দুর করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীভূতকরন তথা সাম্যতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাছাড়া মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ইতিপূর্বে প্রাইভেট-পাবলিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন।আশা করি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় আমার এই প্রস্তাবটি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন।

লেখকঃ শিক্ষা বিষয়ক গবেষক এবং সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.