এইমাত্র পাওয়া

করোনায় উচ্চ ঝুঁকিতে ৩১ জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়াল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৫২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংক্রমণের ৩৮৯তম দিনের মাথায় মোট ৯ হাজার ৪৬ জনের মৃত্যু হলো। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও পাঁচ হাজার ৩৫৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ছিল দু’দিন আগে গত সোমবার পাঁচ হাজার ১৮১ জন। মঙ্গলবারও পাঁচ হাজারের ওপরে আক্রান্ত হয়েছিল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আগের আক্রান্তের রেকর্ড ভেঙে গেল। এর মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছয় লাখ ১১ হাজার ২৯৫ জনে পৌঁছাল। এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত আরও দুই হাজার ২১৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত মোট পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। করোনায় মৃতদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫৭ শতাংশ মৃত্যু নিয়ে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান ঢাকা বিভাগের। সবচেয়ে কম মৃত্যু ময়মনসিংহ বিভাগে, ২ দশমিক ২২ শতাংশ। মৃতদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি পুরুষ এবং ৫৬ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে।

তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ দিনে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকারে বেড়েছে। এ সময়ে ৫২ হাজারের ওপরে আক্রান্ত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ করোনায় মারা গেছেন। গত বছর সর্বোচ্চ সময়ে যে সংক্রমণ ছিল, এখন তাও ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৫ দিনে মৃত্যুবরণ করেন ৫০১ জন; প্রতিদিন গড়ে ৩৪ জন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণ শয্যার ওপরও চাপ বাড়ছে। রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে মাত্র ৬৪৬টি সাধারণ শয্যা ফাঁকা আছে। আর আইসিইউ শয্যা ফাঁকা আছে মাত্র ৫০টি। এর মধ্যে সরকারিতে সাধারণ শয্যা ফাঁকা আছে মাত্র ২৬৫টি। আর আইসিইউ শয্যা ফাঁকা আছে মাত্র পাঁচটি। গত তিন তিন ধরে পাঁচ হাজারের ওপরে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রাজধানীর বাসিন্দা। এ অবস্থায় করোনা হাসপাতাল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর আগের তুলনায় বেশির ভাগ আক্রান্ত মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শয্যার অপ্রতুলতার সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং দ্রুত শয্যা বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে ৩১ জেলা :করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন করে দেশের ৩১ জেলায় সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই ৩১ জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজবাড়ী, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, নড়াইল, নীলফামারী, গাজীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মাদারীপুর, নওগাঁ, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, নাটোর, টাঙ্গাইল ও কক্সবাজার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, এসব জেলার প্রতিটিতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আবার কোনো কোনো জেলায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শনাক্তের হার উঠেছে। আবার কয়েকটি জেলায় ২০ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ওপরে থাকা জেলাগুলোকে উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছর ৮ মার্চ। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ৯৫ দিনের মাথায় গত বছরের ১০ জুন মৃত্যু হাজার ছাড়ায়। ওই দিন ৩৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১২ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু দুই হাজার ছাড়ায় সংক্রমণের ১২০ দিনে গত বছরের ৫ জুলাই। সংক্রমণের ১৪৩ দিনের মাথায় গত বছরের ২৮ জুলাই মৃতের সংখ্যা তিন হাজারে পৌঁছায়। মৃত্যু চার হাজার ছাড়ায় সংক্রমণের ১৭১ দিনের মাথায় গত বছরের ২৫ আগস্ট। সংক্রমণের ১৯৯তম দিনে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়ায়। ওই দিন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার সাত জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৫২ হাজার ১৭৮ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু ছয় হাজার ছাড়ায় সংক্রমণের ২৪২তম দিনে গত বছরের ৪ নভেম্বর। মৃত্যু সাত হাজার ছাড়ায় ২৮০তম দিনে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। মৃত্যু আট হাজার ছাড়ায় ৩২২তম দিনে গত ২৩ জানুয়ারি। সংক্রমণের ৩৮৯তম দিনে গতকাল ৩১ মার্চ মৃতের সংখ্যা নয় হাজার ছাড়ায়।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, মোট মৃতের ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। মোট মৃত নয় হাজার ৪৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে পাঁচ হাজার ১৫২ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৬৪০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর হার ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা খুলনা বিভাগে ৫৮২ জন মারা গেছেন। মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫০৪ জনের। মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা রংপুর বিভাগে ৩৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। ষষ্ঠ স্থানে থাকা সিলেট বিভাগে ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সপ্তম স্থানে থাকা বরিশাল বিভাগে ২৭৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুহার ৩ দশমিক ০২ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ২০১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে মৃত্যুহার ২ দশমিক ২২ শতাংশ।

৭৫ শতাংশের বেশি পুরুষ :মৃতদের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, পুরুষ করোনায় বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ছয় হাজার ৮১২ জন পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা দুই হাজার ২৩৪ জন। পুরুষের মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং নারীর মৃত্যুহার ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।

বয়স বিশ্নেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের ওপরের বয়সীরা মারা গেছেন মোট পাঁচ হাজার ৬০ জন। মৃত্যুহার ৫৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী দুই হাজার ২৩৫ জন। মৃত্যুহার ২৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক হাজার ১৯ জন। মৃত্যুহার ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৪৪৯ জন। মৃত্যুহার ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১৭৮ জন। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৬৭ জন। মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। সর্বশেষ স্থানে রয়েছে শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী ৩৮ জন। মৃত্যুহার দশমিক ৪২ শতাংশ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.