এইমাত্র পাওয়া

করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ৩ নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক।।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এ গ্রীষ্মে ফের নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই করোনা সংক্রমণ রোধে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্দেশনার কথা জানান। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন, আমি সব জায়গায় বলছি, আমরা খুব কমফোর্ট জোনে আছি এটা যেন চিন্তা না করি। হ্যাঁ, আমরা অনেক দেশ থেকে ভালো অবস্থায় আছি, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয় না যে আমরা একেবারে কমফোর্ট জোনে আছি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আমরা যে যেখানে থাকি, ভ্যাকসিন নিই বা না নিই, আমরা যেন অবশ্যই তিনটি জিনিস মেনে চলি। আমরা যেন অবশ্যই বাইরে মাস্ক ব্যবহার করি। যথাসম্ভব যেন আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি। তিন নম্বর হলো পাবলিক গ্যাদারিং যেখানে হচ্ছে, বিশেষ করে কক্সবাজার বা হিলট্র্যাকসে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় গ্যাদারিং হচ্ছে, সেখানে যেন একটা লিমিটেড সংখ্যায় থাকি। নিজেদের যেন একটা দায়িত্ববোধ থাকে, যেখানে বেশি সংখ্যক লোক আছে সেখানে যেন আমি না যাই। যারা যাবেন তারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এত বেশি লোক হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, কেউ মাস্ক পরছে না। গত বছর মাস্ক না পরার জন্য মিয়ামি বিচে পুলিশ পিটুনি দিয়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে। সেজন্য আমরা প্রত্যেকে যেন একটা দায়িত্ব পালন করি, পাবলিক গ্যাদারিংয়ে আমি যেন অবস্থা বুঝে অংশ নিই।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে আমাদের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন, আমরা যেন খুব কমফোর্ট ফিল না করি, গত বছর আমাদের সংক্রমণ সর্বোচ্চ হয়েছিল গ্রীষ্মকালে। এটা নিশ্চিত নয় যে এটা এবার উঠবে না। আমরা মনে করেছিলাম শীতকালে বোধ হয় পিকে (সর্বোচ্চ সংক্রমণ) চলে যাবে, কিন্তু আমাদের পিক ছিল হাই সামার। এপ্রিল, মে ও জুন আমাদের হাই সামার হবে। বিশেষজ্ঞরা যেটা বলেছেন, সেই বিষয়ে আমাদের সবাইকে দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে, যেন আমরা যার যার জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক, দলীয়, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সব পর্যায়ে সতর্ক থাকি।

মানুষ মাস্ক না পরলে আবার কি সরকার মাঠে নামবে? এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, আমরা সিনারিটা (দৃশ্যপট) দেখি, আমরা তো প্রচার করছিই। বিজ্ঞানীরা তো বলছেন না যে একটি ভ্যাকসিন নিলে আপনি পুরোপুরিভাবে নিরাপদ। ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক পরতে বলা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে করোনা টিকা নেয়ার হার কমেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে। দু-একদিনের মধ্যে তারা এটা নিয়ে কথা বলবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু সামনে রমজান, কতগুলো আইটেম রমজানের সময় জরুরি প্রয়োজন হয়—ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, খেজুর, পেঁয়াজ ও আদা। এগুলো নিয়ে আজকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রিপরিষদকে আশ্বস্ত করেছে যে, আমাদের যে পরিমাণ চাহিদা, সেই তুলনায় মজুদ কমফোর্টেবল (পর্যাপ্ত) আছে।

তিনি আরো বলেন, টিসিবি যেটা আমদানি করছে, সেটা রোজার অনেক আগেই দেশে চলে আসবে। যে ছয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রোজার সময় বিশেষ প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে অসুবিধা হবে না। এবার আমরা একটু কমফোর্টেবল অবস্থায় আছি।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কুড়িগ্রামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হবে ?‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি হলে দেশে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে ৪৯টি। বৈঠকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.