নিউজ ডেস্ক।।
ইয়াবা নিয়ে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। গত বছর ২১ ডিসেম্বর উখিয়া রাজাপালং এর হরিণমারা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. হাসেমকে ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক করেছে র্যাব-১৫।
হাসেম আটক হওয়ার পর তার মা মমতাজ বেগম তার ছেলেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ৯ জানুয়ারি, শনিবার সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে নির্দোষ। ওই ইয়াবার প্রকৃত মালিক স্থানীয় হরিণ মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক। সে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গ্রামের ছাবের আহমেদের ছেলে।
জানা গেছে, আবদুল মালেক শিক্ষকতা পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি হাসেমের মতো আরো কয়েকজন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের ইয়াবা পরিবহনের কাজে টাকার বিনিময়ে নিযুক্ত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. হাসেম ১০ হাজার ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলে ওই হাসেম উক্ত ইয়াবার মালিক মাস্টার আবদুল মালেক বলে জানান।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হলে হাসেমের মা মমতাজ বেগম প্রতিবেদককে জানান, মালেক মাস্টারের নির্দেশেই হরিণ মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আমার ছেলে মো. হাসেম ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে মালেক মাস্টারের সামনে উপস্থিত হয়। হাসেম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে হাতকড়া পড়া অবস্থায় মালেক মাস্টার সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। হাসেম আসার পরে মালেক মাস্টারের হাত থেকে হাতকড়া খুলে হাসেমের হাতে পড়ানো হয়। তখন হাসেম র্যাবের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, ওই ইয়াবার মালিক মালেক মাস্টার বলে র্যাবের কাছে জানানো সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে মালেক মাস্টারকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর হাসেমকে নিয়ে চলে যান র্যাব সদস্যরা। এ ঘটনায় হাসেমের বিরুদ্ধে মামলা হলেও আব্দুল মালেক মাস্টার রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পরে হাসেমের মা মমতাজ বেগম মালেক মাস্টারের কাছে গিয়ে তার ছেলেকে কেন র্যাবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে মালেক মাস্টার বলেন, কোন অসুবিধা নেই আমি তোমার ছেলের জামিন নেব। যতদিন পর্যন্ত হাসেম জেলে থাকবে ততদিন তোমাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমি নেব।
এ বিষয়ে ফোনে আবদুল মালেক মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। অনেকে আমার কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছেন, আমি তাদেরকে যথাযথ জবাব দিয়েছি। হাসেম ধরা পড়া এবং ইয়াবা উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি একজন শিক্ষক আমার কাজ শিক্ষকতা, ইয়াবা ব্যবসা নয়। যারা আমাকে ইয়াবা গডফাদার বানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন তারা মূলত আমার প্রতিপক্ষ।
এদিকে, ধৃত হাসেমের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে আমাদের ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব মাস্টার আব্দুল মালেক পালন করবেন বলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত হাসেম জেল থেকে ছাড়া না পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে র্যাব-১৫’র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, আমরা হাসেমের হাতে ১০ হাজার ইয়াবা পেয়েছি এবং তাকে সেভাবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বাদবাকি বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখবেন। হাসেমের মা মমতাজ বেগম এবং স্ত্রী রোজিনা আক্তারের বক্তব্য আমাদের কাছে গুরুত্বহীন, তবে তাদের যদি কোনো বক্তব্য থাকে তা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোর্টে গিয়ে বলতে পারবেন। মাস্টার আবদুল মালেক এ বিষয়ে জড়িত থাকলে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব হাসেমের পরিবারের।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
