দেহঘড়ি :
২০১৭ সালে আয়ু নামক জার্নালে একটি মেথি বিষয়ক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা ৬০ জন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীর ওপর চালানো হয়েছে। তাদেরকে দুটি গ্রুপে (এক্সপেরিমেন্টাল গ্রুপ ও কন্ট্রোল গ্রুপ) বিভক্ত করা হয়। প্রতি গ্রুপে ৩০ জন ছিল। এক্সপেরিমেন্টাল গ্রুপকে খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ডায়াবেটিস ওষুধের পাশাপাশি পানিতে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ানো হয়। অন্যদিকে কন্ট্রোল গ্রুপকে শুধু ডায়াবেটিসের ওষুধ দেয়া হয়।
পাঁচ মাস পর দেখা গেছে, এক্সপেরিমেন্টাল গ্রুপের রোগীদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার কন্ট্রোল গ্রুপের রোগীদের তুলনায় বেশি কমেছে। হিমোগ্লোবিন এ১সি টেস্টেও অনুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এই টেস্টে কয়েক মাসের ব্লাড সুগারের গড় হিসাব করা হয়। এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরো নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালের প্রয়োজন আছে। ইতোমধ্যে গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট ও এক্সারসাইজের পাশাপাশি মেথি বীজ খেলে সিনারজিস্টিক ইফেক্ট সৃষ্টি হবে, যা ডায়াবেটিসকে দমাতে সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যগতভাবে পেটের সমস্যা, একজিমা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় মেথি বীজের ব্যবহার হয়ে আসছে। টেক্সাসের গ্লোবাল ডায়াবেটিস প্রোগ্রামের পরিচালক কেলি রদ্রিগেজ বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয় যে মেথি বীজ সুগার মেটাবলিজম ও ব্লাড প্রেশারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা (বিশেষ করে কোমর বাড়ছে কিনা খেয়ালে রাখা), প্রতিসপ্তাহে ১৫০ মিনিট এক্সারসাইজ করা (যেখানে অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি ও স্ট্রেংথ ট্রেইনিংয়ের সমন্বয় থাকবে) এবং ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়ায় না এমন খাবার খাওয়া (যেমন- চর্বিহীন মাংস, গোটা শস্য, সতেজ ফল ও কম শ্বেতসার রয়েছে এমন শাকসবজি)।’
মেথি বীজ কীভাবে ডায়াবেটিসকে প্রভাবিত করে? মেথি বীজের গুঁড়াতে উচ্চ পরিমাণে সলিউবল ফাইবার রয়েছে, যা পাকস্থলিতে সুগার শোষণ ধীর করে। অন্যদিকে এতে বিদ্যমান অ্যামাইনো অ্যাসিড ৪-হাইড্রোক্সিআইসোলিউসিন ইনসুলিন উৎপাদনে উদ্দীপনা যোগাতে পারে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসরিত ইনসুলিন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া মেথি বীজে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে, যা শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি রেডিক্যালস জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
কীভাবে মেথি ব্যবহার করবেন? তরকারিকে সুস্বাদু করতে মেথি পাতা ও বীজ ব্যবহার করতে পারেন। ক্যাপসুল, ট্যাবলেট অথবা চা হিসেবেও মেথি গ্রহণ করতে পারেন। অথবা মেথি বীজকে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে এই পানি পান করতে পারেন। মেথিকে যেভাবেই ব্যবহার করেন না কেন, আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভালো। মেথি সেবনের প্রথম কিছুদিন হালকা ডায়রিয়া, গ্যাস অথবা পেটফাঁপা হতে পারে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দ্রুত চলে যায়।
কিন্তু আপনি প্রেসক্রিপশনের ডায়াবেটিস ওষুধ, থাইরয়েড হরমোন অথবা আসপিরিন ও ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলাকারী ওষুধ গ্রহণ করলে মেথি ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন। গর্ভবতী নারীদের মেথি খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে বিপজ্জনক জরায়ু সংকোচন অথবা অকাল গর্ভপাতের ঝুঁকি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মেথিকে ডায়াবেটিস চিকিৎসার প্রধান সমাধান ভাবার সময় আসেনি, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটাকে ডায়াবেটিস থেরাপির একটা অংশ করা যেতে পারে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
