এইমাত্র পাওয়া

স্কুলে বই বিতরণ শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেও ডিজিটাল পদ্ধতি অনলাইনে শিক্ষাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভর্তির ব্যবস্থাটাও অনলাইনে চলবে। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি অন্য বই পড়ার এবং শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে নেওয়ার জন্যও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ সব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক স্তর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (জুম, ম্যাসেঞ্জার, ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস রেকর্ডিং করে কিশোর বাতায়ন, শিক্ষক বাতায়ন এবং ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কাজেই ঘরে বসে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। সরকার যখনই স্কুলগুলো খোলার বিষয়ে চিন্তা শুরু করল, তখনই করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা আসার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করেই স্কুল না খুলে এখন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যে যদি অবস্থা ভালো হয়, তাহলে স্কুল খোলা হবে, না হলে আমরা খুলব না।করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যথাসময়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দিচ্ছে সরকার।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ খানা পাঠ্যপুস্তক বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কয়েক জন প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেন। আজ পহেলা জানুয়ারি থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বই বিতরণ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অভিভাবক বা বাবা-মা রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করব আপনারা বাচ্চাদেরকে সময় দেবেন। তাদের শরীরচর্চাটা যেন হয়, সেজন্য একটু খেলাধুলা যাতে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। এতে করে ছেলে-মেয়েদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যটা ভালো থাকবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনা ভাইরাসের মধ্যেও আমরা সকলের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারলাম।

কাজেই ছোট্ট সোনামণিরা, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। মানুষের মতো মানুষ হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.