নিউজ ডেস্ক ঃ
করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। আর সে কারণেই আগামী বছরের শিক্ষা কার্যক্রম কেমন হবে তার প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বদলে যাচ্ছে গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যমান কারিকুলামের আওতায় বছর জুড়েই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ঘাটতি পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে নতুন বছরে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে বছর জুড়েই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করার। করোনার প্রভাব না থাকলেও চলবে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা। একইসঙ্গে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষাবর্ষে। এ জন্য এই নতুন বইসহ পুরাতন বছরের বই শিক্ষার্থীদের সংগ্রহে রাখতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় ২০২১ সালের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে।
অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা ছাড়াও অনলাইনে পাঠদান, ভিডিও রেকর্ড করা পাঠদান চলবে। করোনা পরিস্থিতি না থাকলেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে সারা বছর।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম মো. ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট আমরা দীর্ঘদিন থেকে চালু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারিনি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্টে নভেম্বর থেকে যেতে হলো। সেটা খুবই কার্যকর হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটিকে ভালোভাবে নিয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেখা যায়। আগের বিদ্যমান পরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কিছু শেখার নেই।কী শিখেছে তা যাচাই করা হতো।এই ব্যবস্থা শুধুই পরীক্ষানির্ভর। তাই করোনা না থাকলেও আমরা আগামী বছর ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট চালু রাখবো।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর জানায়, অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কেউ অন্যের মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্ট কপি করলে বা অন্যের মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করলে শিক্ষকরা তা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে নতুন করে একই অ্যাসাইনমেন্ট করাবেন। যেহেতু এখানে পরীক্ষার মতো কোনও নম্বর দেওয়ার বিষয় নেই, তাই শিক্ষার্থীকে শেখানোর জন।অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, করোনার জন্য যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায় তাহলে আগামী তিন মাসের (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) অ্যাসাইনমেন্ট রেডি করবো। এছাড়া অনলাইন ক্লাস তো চলবেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা গেলেও অনলাইন ক্লাস চলবে। এ বছরের ঘাটতির জন্য কিছু নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আগামী বছর আমদের একটি প্যাকেজ যাবে। নতুন কারিকুলামের কিছু কনটেন্ট যাবে পুরাতন কারিকুলামে। প্রজেক্ট ওয়ার্ক থাকবে শিক্ষার্থীদের জন্য।
শিক্ষাবার্তা/ বিআ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
