আবুল হোসেন বাবলু।।
প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন পরিচালিত এবং তার মালিকানাধীন আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক এমবিবিএস পড়ুয়া চুড়ান্ত বর্ষের ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে এমবিবিএস পড়ুয়া চুড়ান্ত বর্ষের ছাত্র শহিদুল ইসলাম ওলি ওই আবাসিক ছাত্রাবাসে থাকতো। এলাকায় ওই ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকা বাসীর অভিযোগ মৃত্যুর আসল রহস্য গোপন রেখে ধামাচাদেয়ার চেষ্টা করছে প্রাইম কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর’২০) রংপুর সিটি কর্পোরেশন ১৩নং ওয়ার্ডের পীরজাবাদ এলাকায় প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন জনৈক শাহাদাৎ হোসেনের মালিকানাধীন ছাত্রাবাসে শহিদুল ইসলাম ওলি নামে চুড়ান্ত বর্ষের এক এমবিবিএস শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে নিহত শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম ওলি কুড়িগ্রাম সদর থানাধীন এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে। তিনি প্রাইম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ বিষয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মিজানুর রহমান তুহিন জানান, আমার বাড়ি এই হাসপাতালের পাশেই, যতটুকু খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ছেলেটির বাসা কুড়িগ্রাম সদরের ডাকবাংলা পাড়ায় তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রী, জমি জায়গা বিক্রি করে একেবারে নিঃস্ব হওয়া পরিবারটি ছেলের ডাক্তার হওয়ার আশায় দিন কাটাচ্ছেন, ছেলেটি চুড়ান্ত বর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থী।
গরীব পরিবারের ছেলে হিসেবে সে কষ্ট করে সল্প খরচে জীবনযাপন করতো। গত রাতে মেয়ে ঘটিত কোনো এক কারণে আবাসিক হোস্টেলে অন্য ছাত্রের সাথে কথা- কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর করে রুমে আটকে রাখা হয়। পরে সে অনেক কষ্টে এক বন্ধুকে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানায়। সে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ছেলেটি মারা যায়। কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত জেনেও আইসিইউতে রাখে এবং ঘটনা গোপন রাখতে ছাত্রদেরকে বিষয়টি প্রকাশ না করবার জন্য বলেন। এ ধরনের অনাকাঙ্খিত প্রতিটি ঘটনায় প্রাইম কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নজির রয়েছে।
ব্যক্তিগত নৈতিকতার থেকে বিভৎস লোমহর্ষক এই ঘটনাটি বিবেক কে মুচড়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, মারধরের ঘটনায় ছেলেটি মারা গেছে সে কারণেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে মৃত জেনেও তাকে আইসিইউতে রাখে। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ ভোর চারটার দিকে তার লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যায়। ঘটনার অভ্যান্তরে অন্য কোন কারণও থাকতে পারে, তাই বলে আইন কারোরই হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রকৃত ঘটনাটি উন্মোচন করতে আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমি দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা যখন গিয়েছি তখন নিহত শিক্ষার্থী হাসপাতালেই ছিল আত্মহত্যা কিংবা হত্যা নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
