এইমাত্র পাওয়া

মাস্ক ছাড়াও সেবা মিলছে

 নিজস্ব প্রতিনিধি।।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় কড়াকড়ি ছিল। প্রবেশমুখে বসানো হয় পানির কল ও বেসিন; পাশেই রাখা থাকত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই এসবের ব্যবহার কমতে থাকে। মাস্ক ব্যবহারেও দেখা দেয় অনীহা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

গতকাল সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও কমলাপুর রেলস্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানায় খুবই ঢিলেঢালাভাব দেখা যায়। যদিও দৃশ্যমান অনেক জায়গাতেই কর্তৃপক্ষের ঝোলানো ব্যানারে লেখা আছে—‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’।

সায়েদাবাদ এলাকায় মানিকনগরে অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড পরিবহনের টিকিট কাউন্টারেও মাস্ক না থাকলে সেবা না দেওয়ার কথা লিখে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতার মুখেই মাস্ক নেই। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা দিন পরেই ছিলাম, মাত্র খুললাম। আর এখন তো সামনে মানুষজন নাই। দুই-একজন আইলে তখন পরি।’ যাত্রীদেরও অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। তাঁদের মধ্যে দুজনের কাছে কারণ জানতে চাইলে তাঁরাও একই ধরনের অজুহাত দেন। এ সময় তাঁরা দেখান যে তাঁদের পকেটে বা ব্যাগে মাস্ক আছে।

মানিকনগর থেকে একটু এগিয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। এর পুরোটা ঘুরেও কোথাও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা চোখে পড়ল না। কয়েকটি বাসের সুপারভাইজার, চালক ও চালকের সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনাকালে কখনো এখানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাই ছিল না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাভেলসের ফোরম্যান রাজ্জাক মিয়া বলেন, ‘এইনে করোনার মধ্যে হাত ধোয়ার কোনো জায়গা আসিল না। আপনে অহন কইতে পাইবেন? আমরা নিজেরাই আগে প্যাসেঞ্জারে গাড়িত উডানোর সময় বোতল দিয়ে হাতে সাবান-পানি দিতাম। অহন মাইনষে এই তা আর লয় না। বুতল গাড়িতেই থাহে, কেউ চাইলে দেই।’

রাজ্জাক মিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই একজন চালক অনেকটা বোঝানোর ভঙ্গিতে বলতে শুরু করলেন, ‘আমরা যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের করোনা হয় না। আমাদের প্রতিদিনই কাজ করতে হয়। না করলে সংসারে মানুষগুলো না খেয়ে থাকবে।’ যারা পাঁচতলায় থাকে তাদের করোনা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কমলাপুর রেলস্টেশনের চিত্র অবশ্য পুরোটা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের মতো নয়। স্টেশনের প্রবেশমুখেই সারিবদ্ধভাবে বসানো আছে পাঁচটি বেসিন। এর মধ্যে একটি অবশ্য নষ্ট, পানি আসে না। বাকিগুলোতে হাত ধোয়ার জন্য পানি থাকলেও নেই সাবানের ব্যবস্থা। হাত ধোয়ার মানুষও তেমন পাওয়া গেল না। অনেকের মুখে মাস্কও নেই।

বিকেল তখন চারটা ২৫। আর ১৫ মিনিট পরেই তাড়াইলের উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়ে যাবে যমুনা এক্সপ্রেস। তাই তাড়ায় আছেন রুহুল আমিন। হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার করার মতো সময় নেই তাঁর। তাঁকে থামানোরও কেউ নেই। তাঁর সঙ্গে ছুটতে ছুটতে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। মিনিট দশেক বাকি থাকতেই তিনি পৌঁছে গেলেন তাঁর জন্য নির্ধারিত ট্রেনের কামরার সামনে। এবার অনেকটা নির্ভার হয়ে কথা বললেন তিনি, সব সময়ই করোনা নিয়ে তাঁর সচেতনতা রয়েছে। কিন্তু এখন ট্রেন ধরার তাড়ায় হাতে জীবাণুনাশক দেওয়া হয়নি।

স্টেশন ম্যানেজার নৃপেন্দ্র সাহা বললেন, ‘আমাদের চেষ্টা সব সময় আছে। কিন্তু এত মানুষকে ধরে ধরে কিছু করা সম্ভব নয়। তাদের নিজেদের সচেতন হওয়া উচিত। আমরা কত পুলিশ নিয়োগ দিয়ে সমাধান করতে পারব! তবে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এখন ভেতরে এসে যদি কেউ খুলে ফেলে তাহলে তো আমাদের কিছু করার থাকে না!’সুত্র কালের কন্ঠ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.