নিজস্ব প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ ১২ বছর চাকরি করলেন রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। তার সনদ ছিলো জাল। ১২ বছরে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন নিয়েছেন অবৈধভাবে। অবশেষে প্রমানিত হলো শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের নিয়োগ ও সনদ অবৈধ। এই নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট হলে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন এই বিষয়ে হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন যেহেতু উনি পদত্যাগ করেছেন সেহেতু আমরা নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারহানা আক্তার লিপি বলেন আমি উনার পদত্যাগ পত্র পেয়েছি । এখন আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উল্লেখ্য রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষার মহাপরিচালক, ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক এবং ঢাকা জেলার শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নজরুল ইসলাম এই বিদ্যালয়ে ঢোকার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
সূত্র আরো বলছে, নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না। অথচ তিনি বিদ্যালয়ে না এসেও প্রতি মাসের বেতন ভাতা গ্রহণ করে। রুটিনে তার বরাদ্দকৃত ক্লাসগুলো অন্য শিক্ষকের দ্বারা পরিচালনা করা হয়। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও তিনি প্রতি মাসে বিজ্ঞানাগারে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অথচ বিজ্ঞানাগারে কোন ক্লাসতো নিতেনই না বরং কোন খোঁজখবরও নিতেন না।
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বংশাল থানাধীন ‘হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ২০০৮ সালের ২ মার্চ স্কুলে নিয়োগ পেয়ে ১১ মার্চ তিনি যোগদান করেন। এরপর গত ২০১০ সালের ১ নভেম্বর এমপিওভুক্ত হন। আর তখনই তিনি জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জমা দেন। তার নিবন্ধন নং-০১১৯১৬৭৮/২০০৫, যার রোল নং- ১১৯১৬৭৮, বিষয়: গণিত। শিক্ষক নজরুল ইসলাম এই জাল নিবন্ধন সনদ আড়াল করার চেস্টা করে। এজন্য তিনি গত ২০০২ সালে নিয়োগ পাওয়া অপর এক শিক্ষক মো. আহসান হাবীবের নিয়োগ, যোগদান ও রেজুলেশনসহ নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মো. আহসান হাবীবের স্থলে নিজের নাম লিখে চাকুরি করে আসছেন।
তৎকালীন প্রধান শিক্ষক এস.এম আব্দুল্লাহ আল আমীন তার আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি এতোদিন ধামাচাপা ছিল। কিন্তু ওই প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হওয়ার পর তা প্রকাশ হয়। তাছাড়াও তিনি ওই স্কুলের নিয়োগ বাণিজ্য, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, পকেট কমিটির মাধ্যমে সিনিয়র শিক্ষকের তুলনায় বেশি বেতন গ্রহণ করেছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগে জানা গেছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
