এইমাত্র পাওয়া

এটুআই-সিনেসিস আইটি পেলো গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড

অনলাইন ডেস্ক:

কোভিড-১৯ সংকটে নাগরিকদের চিকিৎসায় প্রযুক্তিগত সমাধানে এটুআই এবং সিনেসিস আইটি লিমিটেডকে ‘ডব্লিউআইটিএসএ গ্লোবাল এক্সিলেন্স আইসিটি অ্যাওয়ার্ডস’ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলোর জোট ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস এলায়েন্স (ডব্লিউআইটিএসএ) কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সেবা ‘কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সার্ভিস’-এর সাহায্যে নাগরিকদের চিকিৎসা সহায়তার স্বীকৃতি স্বরূপ এটুআই-কে এই গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।

গত ১৮ নভেম্বর ‘রোড টু ডব্লিউসিআইটি মালয়েশিয়া’ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ডব্লিউআইটিএসএ তথ্যপ্রযুক্তির নোবেল খ্যাত ‘ডব্লিউআইটিএসএ গ্লোবাল এক্সিলেন্স আইসিটি অ্যাওয়ার্ডস’ ঘোষণা কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯ নভেম্বর এ স্বীকৃতি দেয় বলে জানায় এটুআই।

শনিবার (২১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এটুআই জানায়, এ বছর কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট নতুন তিনটি ক্যাটাগরিসহ মোট নয়টি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে ‘কোভিড-১৯ টেক সলিউশন্স ফর সিটিস অ্যান্ড লোকালিটিস’ ক্যাটাগরিতে এটুআই এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এটুআই-এর পক্ষে ওই ভার্চ্যুয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর-এর চিফ ই-গভর্নেন্স স্ট্রাটেজিস্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ।

অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডব্লিউআইটিএসএ প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ফ্লোরেন্স সেরিকি এমএফআর-সহ আরো যুক্ত ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।

করোনা সংকট মোকাবিলায় সারাবিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সরকার নানা উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মহামারির এই সংকট নিরসনে নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম-এর উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শুরু হয় ‘কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার’ কার্যক্রম।

এই সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিভিন্ন চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ, নির্দেশনা ও রেফারেল সেবা দেওয়া হয়। অন্যান্য সেবা যেমন: খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ইত্যাদি সার্ভিসের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। একটি নির্দিষ্ট নম্বরের (০৯৬৬৬৭৭৭২২২) মাধ্যমে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের টেলি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এই টেলিহেলথ সার্ভিসের আওতায় ৯৫ শতাংশ রোগীকে বাড়িতে চিকিৎসা সেবা দেওা হয় এবং বাকি ৫ শতাংশকে হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেন্টার থেকে সেবা প্রাপ্ত ৯৯ শতাংশ রোগী সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং মৃত্যু হার হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৪ শতাংশে। করোনা সংকট মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে এমন যুগান্তকারী সফলতার জন্য এটুআই এবং সিনেসিস আইটি এই সম্মাননা অর্জন করে।

নাগরিকদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরো শক্তিশালী ও কার্যকরি ই-স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়তা করছে। একই সাথে সংকটের এ সময়েও দেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা লাভ করছে সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা।

ডব্লিউআইটিএসএ তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংগঠন। বিশ্বের ৮০টি দেশের জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠন এর সদস্য। সদস্য দেশসমূহের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা এ পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ আইটির বাজার ডব্লিউআইটিএসএ’র সদস্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.