বাংলাদেশের জিডিপির আকার যত, এর মাত্র পৌনে ৯ শতাংশের কম আসে কর থেকে। অথচ পার্শ্ববর্তী নেপালে জিডিপির মোট ২১ শতাংশের মতো কর থেকে আসে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম নাগরিক আয়কর দেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর দেওয়ার জটিল প্রক্রিয়া এবং হয়রানির ভয়ে এ দেশের নাগরিকেরা করযোগ্য আয় থাকলেও কর দিতে আগ্রহ বোধ করেন না। তবে বড় অংশই আয়কর ফাঁকি দেন। আবার অনেকে আয়করের বিনিময়ে সরকারি সেবা কম পাওয়ার কথাও বলেন। দেশে আয়করদাতার সংখ্যা কম বলেই শুল্ক ও ভ্যাট আদায়ে বেশি চাপ দেওয়া হয়। যেমন সাবানের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নানা পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ আছে। অথচ ধনী-গরিব সবাই সাবান ব্যবহার করেন। ফলে ভ্যাটের মতো পরোক্ষ করের মাধ্যমেও গরিব মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করা হয়।
বাংলাদেশের জিডিপির আকার যত, এর মাত্র পৌনে ৯ শতাংশের কম আসে কর থেকে। অথচ পার্শ্ববর্তী নেপালে জিডিপির মোট ২১ শতাংশের মতো কর থেকে আসে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালের বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই হিসাব পাওয়া গেছে। যদিও সরকারি হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছর নাগাদ কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম কর-জিডিপি অনুপাত আফগানিস্তানে। ওই দেশে জিডিপির অনুপাতে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো কর আসে। তারপরেই আছে বাংলাদেশ।
এ দেশে কর ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকে কোনো সংস্কার হয়নি। তাই যে হারে অর্থনীতির আকার বাড়ছে, সেই হারে রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না।
কেন বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত কম—এমন প্রশ্ন করা হলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, এ দেশে কর ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকে কোনো সংস্কার হয়নি। তাই যে হারে অর্থনীতির আকার বাড়ছে, সেই হারে রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। কর নীতি, কর প্রশাসন ও অটোমেশন—কোনো খাতেই সংস্কার হয়নি। নতুন ভ্যাট আইনটি কেটে–ছিঁড়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। বর্তমান নীতি ও প্রশাসন দিয়ে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো যাবে না।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
