এইমাত্র পাওয়া

নতুন কমিটিতে সভাপতিমন্ডলী অলআউট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢেলে সাজানো হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগকে। গত শনিবার ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতিমন্ডলীতে গত কমিটির সভাপতিমন্ডলীর ২৭ সদস্যের কেউই স্থান পাননি। কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১৩৩ জন। ৫ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে আগের কমিটির একজনকে রাখা হয়েছে। এর আগে গত বছর ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে শীর্ষ দুই পদে আসে নতুন মুখ। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের দুর্নাম ঘুচিয়ে যুবলীগকে আদর্শ সংগঠনে রূপান্তরিত করতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আলোকে চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশনা দেন তিনি। তাছাড়া সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিবাজ ও ক্যাসিনোকান্ডে জড়িতদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৫১ থেকে বাড়িয়ে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৪ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। খালি আছে ১৭টি পদ।

সভাপতিমন্ডলীর ২৭ পদের মধ্যে ২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই ২২ জনের মধ্যে গত কমিটির সভাপতিমন্ডলীতে থাকা ২৭ জনের কারও নাম নেই। তাছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে ছিটকে পড়েছেন গত কমিটির ৯৬ নেতা। নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন গত কমিটির ৫৫ জন। এদিকে মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং একজন নির্বাহী সদস্য ছাড়া কমিটির অন্য কোনো পদে নারী রাখা হয়নি। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট মুক্তা আক্তার ও উপ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমীন। একমাত্র নারী নির্বাহী সদস্য হলেন ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমি ফাতেমা।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর ২২ সদস্যের মধ্যে মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ সোহেল উদ্দিনসহ ১৭ জন নতুন মুখ। সভাপতিমন্ডলীর অন্য সদস্যরা হলেন-অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী এমপি, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোয়ার্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, জুয়েল আরেং এমপি, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন ও এম শাহাদাত হোসেন তাসলিম। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম স্থান পেয়েছেন যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীতে। তার আরেক ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া অন্য ৪ জন হলেন, মতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মো. বদিউল আলম, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার। এর মধ্যে সুব্রত পাল গত কমিটিতেও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবু্যনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন-কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মো. শহিদুল হক রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাডভোকেট মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগ ও প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির। প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. শাহদাত হোসেন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান রাজিব, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শামীম খান, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) বিষয়ক সম্পাদক মো. শামসুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপস্নব মুস্তাফিজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. ফরিদ রায়হান, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দিন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক শাহীন মালুম, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরী পারভেজ, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. হারিস মিয়া শেখ সাগর, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল হাই, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হেমায়েত উদ্দিন মোলস্না, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুক্তা আক্তার, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সাহজাদা, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ নরীরুজ্জামান বাবু, উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হোসেন সুমন, উপ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. সায়েদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মো. আলতাফ হোসেন, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান সুপ্ত, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্বরণ, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জল, উপ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. মিছির আলী, উপ-জনশক্তি ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম, উপ-পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সামসুল ইসলাম পাটোয়ারী, উপ-শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ আল-আমিন, উপ-কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মোলস্না রওমন জামির রানা, উপ-মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদা, উপ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমীন।

রোববার সকালে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বনানী কবরস্থানে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন নতুন কমিটির নেতারা। প্রসঙ্গত, জাতীয় কংগ্রেসের (সম্মেলন) প্রায় এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসা যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে গত বছরের ২৩ নভেম্বর তিন বছরের জন্য নেতৃত্বে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হন যুবলীগের ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করেন।

শিক্ষাবার্তা/ বিআ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.